09/06/2026 জাতিসংঘে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ
odhikarpatra
৫ September ২০২৬ ২২:১১
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের সুযোগ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এমন তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরবেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, বিনিয়োগ, অর্থনীতি, অভিবাসন ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের পর্ব শুরু হবে। এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও নতুন প্রত্যাশার প্রতীক।
নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এবারের অধিবেশনে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি মোকাবিলা, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন অধিকার ঘোষণার ৪০ বছর পূর্তিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
তিনি এটিকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের ৮৩টি মিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে নারীসহ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস, সহনশীলতা ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সেবা চালু করা হয়েছে। কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে ডিজিটাল সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।
নাগরিকদের তথ্য একটি সমন্বিত ডেটাবেজে আনার লক্ষ্যে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজ করতে ২০২৭ সালের মধ্যে দুই লাখ ‘প্রবাসী কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ।
তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসন, প্রবাসীদের সমস্যা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো পৃথক ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে।
বৈধ পথে দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানির ক্ষেত্রে একক কোনো উৎস বা বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এলএনজির নতুন উৎস অনুসন্ধানের পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইতোমধ্যে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় এসেছে। অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে সৃজনশীল অর্থনীতি, নারী উদ্যোক্তা, মসলিন, কুটিরশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনার কথা জানান শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তুরস্কে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনেও টেকসই প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে পাটকে তুলে ধরতে স্টল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, আরাকান আর্মি, আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বার্থের সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া এই সংকটের টেকসই সমাধান কঠিন উল্লেখ করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুধু দুর্যোগ, বন্যা কিংবা অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার পরিবর্তে দেশের পর্যটন, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সৃজনশীল সম্ভাবনা তুলে ধরার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সঠিকভাবে ব্র্যান্ডিং করার কাজ চলছে। তবে সরকার একা এ কাজ করতে পারবে না। নাগরিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজের চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের ইতিবাচক উন্নয়ন ও সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়।