10/24/2026 বিষণ্নতা ও উদ্বেগের সঙ্গে লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন সেলেনা গোমেজ
odhikarpatra
৯ September ২০২৬ ০০:৩৯
অধিকারপত্র ডটকম,অনলাইন প্রতিবেদক
অধিকার পত্র ডেস্ক: জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা, অভিনেত্রী ও প্রযোজক সেলেনা গোমেজ নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) ও উদ্বেগের (অ্যাংজাইটি) সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুরুতে তাঁর জন্য বিষয়টি সহজ ছিল না।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া এক লেখায় সেলেনা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের জীবনের সাজানো ও নিখুঁত ছবি দেখে অনেকের মধ্যেই নিজেকে অন্যদের তুলনায় কম মনে করার প্রবণতা তৈরি হয়। নিজের ক্ষেত্রেও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সেলেনার ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই জনসম্মুখে বড় হওয়া তাঁর জন্য ছিল বাড়তি চাপের। অন্যদের মতো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবর্তে তাঁর জীবন ও সিদ্ধান্ত নিয়ে সবসময় মানুষের মন্তব্য ও বিচার ছিল। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় হতে সাহায্য করেছে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছেন সেলেনা। তাঁদের অনেকেই নিজেদের মানসিক সমস্যার কথা তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে যে সামাজিক সংকোচ রয়েছে, তা কমাতে নিজের পরিচিতি ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে চান তিনি। একই সঙ্গে মানুষকে নিজের স্বাতন্ত্র্যকে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সেলেনার মতে, নারীদের জন্য সমাজে অবাস্তব প্রত্যাশা রয়েছে—কীভাবে দেখতে হবে, কীভাবে আচরণ করতে হবে, এমন নানা চাপ তাদের ওপর থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ‘নিখুঁত’ জীবনের ধারণাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়ার পক্ষেও তিনি কথা বলেছেন। তাঁর মতে, মানুষ সাধারণত অনলাইনে নিজের জীবনের ভালো মুহূর্তগুলোই প্রকাশ করে। ফলে অন্যের সেই ‘হাইলাইট রিল’ দেখে নিজের জীবনকে তুলনা করা ঠিক নয়।

সেলেনা জানান, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যার সময় থেরাপি তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিজের অনুভূতির কারণ বুঝতে এবং বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে থেরাপি তাঁকে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।
শুরুতে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের সঙ্গে লড়াই করার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। কারণ, অনেক মানুষ তাঁকে অনুসরণ করতেন এবং তাঁর কাছ থেকে নিখুঁত থাকার প্রত্যাশা করতেন।
তবে নিজের সমস্যাগুলো স্বীকার করে সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি স্বস্তি অনুভব করেন। তাঁর উপলব্ধি ছিল—নিজেকে একজন নিখুঁত মানুষ হিসেবে তুলে ধরার পরিবর্তে নিজের মানবিক দুর্বলতাগুলো স্বীকার করাও অন্যদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হতে পারে।
সেলেনা গোমেজ শুধু নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেই থেমে থাকেননি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রসাধনী ব্র্যান্ড Rare Beauty-এর মাধ্যমেও সৌন্দর্য ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভিন্ন ধরনের আলোচনা তৈরি করতে চেয়েছেন তিনি।
সেলেনা জানান, একসময় তিনি মনে করতেন সুন্দর দেখাতে মেকআপ করা প্রয়োজন। পরে তাঁর উপলব্ধি হয়, সুন্দর অনুভব করার জন্য মেকআপ অপরিহার্য নয়। এখন তিনি মেকআপকে নিজের কাছে একটি আনুষঙ্গিক বিষয় ও সৃজনশীলতার অংশ হিসেবে দেখেন।
Rare Beauty-এর লক্ষ্য হিসেবে তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরির কথা বলেছেন, যেখানে মানুষ ইচ্ছামতো মেকআপ ব্যবহার করতে পারে এবং নিজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে Rare Beauty-এর সঙ্গে Rare Impact Fund চালু করেন সেলেনা। তাঁর পরিকল্পনা ছিল ১০ বছরে ১০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করা।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কলঙ্ক কমানো, দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্বের সমস্যা মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
সেলেনার মতে, মানুষকে অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের স্বাতন্ত্র্যকে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে কঠিন সময়ে নিজের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়া এবং নিজের অনন্য বৈশিষ্ট্যকে মূল্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।