09/12/2026 চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণা চক্রের ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার
odhikarpatra
১১ September ২০২৬ ২৩:৩৯
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশ যৌথভাবে বৃহস্পতিবার রাতে একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট প্রায় দেড় মাস ধরে ভাড়া নিয়ে গোপনে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তারা অনলাইন প্রতারণার একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক পরিচালনার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
এ ঘটনায় সহযোগিতা করার জন্য দেশীয় একটি চক্রও সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ওই চক্রের সদস্যরা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতি, অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের একজন এবং ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারও কাছেই বৈধ পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।
অভিযানকালে ওই ভবনের ফ্ল্যাটগুলো থেকে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১৩৪টি মুঠোফোন, একটি অ্যাপল ট্যাব, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড।
এ ছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে দেশীয়ভাবে কারা জড়িত এবং তাদের কার্যক্রমের বিস্তৃতি কতটুকু—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।