09/25/2026 ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা ‘ভয়াবহ হামলার’ হুঁশিয়ারি তেহরানের
odhikarpatra
২৫ September ২০২৬ ০৩:৪৪
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই দেশের পাল্টাপাল্টি কঠোর বক্তব্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম দিনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামনে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক ধ্বংসের হুমকি দেন। তিনি বলেন, তাঁর সামনে বড় সিদ্ধান্ত রয়েছে—ইরানকে চুক্তির মাধ্যমে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘annihilate’ বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবশ্য তিনি জানান, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘খুব ভালো’ বৈঠক হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়।
ট্রাম্প পরে আলোচনাকে ‘খুব ভালো’ ও ‘ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, একটি সমঝোতার দিকে ‘অনেক গতি’ তৈরি হয়েছে। তবে আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দল সর্বোচ্চ পর্যায়ের ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ও খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ বলেছে, নতুন করে হামলা হলে তারা আগের তুলনায় আরও ‘তীব্র, ভয়াবহ ও অপ্রত্যাশিত’ আঘাত হানতে প্রস্তুত।
অর্থাৎ একই সময়ে দুই ধরনের বার্তা সামনে এসেছে—ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সামরিক চাপ ও কঠোর হুমকি, আর অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সম্ভাবনা ধরে রাখার কূটনৈতিক উদ্যোগ।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। তেহরান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবি করছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে তেহরান এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই পক্ষই আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি; কিন্তু কেউই নিজেদের প্রধান দাবিতে ছাড় দিতে এখনো প্রস্তুত নয়। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি কঠোর বক্তব্যও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সমঝোতাকে দুই দেশের অভ্যন্তরে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে না দেখিয়ে কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতা হিসেবে উপস্থাপন করা যায়, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘে কূটনীতির পক্ষে অবস্থান জানিয়ে বলেছেন, চাপ ও হুমকির কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না। একই সঙ্গে শক্তির ভাষা ছাড়া আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তাও দিয়েছেন।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে সামরিক হুমকি ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুটি প্রক্রিয়াই একই সঙ্গে এগিয়ে চলছে।
#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #ট্রাম্প #ইরানযুদ্ধ