10/02/2026 সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
odhikarpatra
১ October ২০২৬ ২৩:৪২
অধিকারপত্র ডটকম
অধিকার পত্র ডেস্ক
সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, গত ১৭ বছরে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী সেতু এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, জনগণ বিএনপি সরকারের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে। সেই দায়িত্বের ভিত্তিতে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তার দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল ও নদী পুনঃখনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ এবং বন্ধ থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কাজে বাধা সৃষ্টি হলে এর ক্ষতি জনগণেরই হবে।
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-তে উন্নীত করা হবে।
তিনি বলেন, এর ফলে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে সাধারণ মানুষকে উপজেলা থেকে জেলা শহর বা ঢাকায় যেতে হবে না। নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্প্রসারিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ডায়ালাইসিস এবং মা ও শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার কথাও জানান তিনি। অতিরিক্ত ১০০টি শয্যা যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন বিভাগ চালুর পরিকল্পনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পরশুরামের ৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ১০০ করার দাবি থাকলেও তা ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মজীবী পরিবারের নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম আয়ের কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানো সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সাত দিনের মধ্যে এ ঋণ মওকুফ করা হয় এবং এতে সরকারের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সুবিধা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পকে বৃহত্তর খাল ও নদী পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদীর সংযোগকারী খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষিতে সেচ সুবিধা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পানির ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছাবে এবং ফসল উৎপাদন আনুমানিক ১ লাখ মেট্রিক টন বাড়তে পারে।
২০২৪ সালের বন্যার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় ফেনীতে সেতুর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল এবং নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়।
গত ১৭ বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল ও কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, মিল-কারখানাগুলো চালু হলে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থান বাড়লে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং মানুষ আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেকার মানুষ, নারী, কৃষক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই সরকার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিগুলো এখন জনগণের কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে’ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে।
অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ, খাল পুনঃখনন, নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু অপসারণ এবং বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
‘সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করব’—ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বড় ঘোষণা
#তারেক_রহমান #প্রধানমন্ত্রী #আইনের_শাসন #আইনের_সমান_প্রয়োগ #ফেনী #পরশুরাম #মুহুরী_কহুয়া #কৃষক_কার্ড #ফ্যামিলি_কার্ড #স্বাস্থ্যসেবা #অধিকারপত্র