10/05/2026 লালন আখড়াবাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, থানায় অবরুদ্ধের অভিযোগ এনসিপির
odhikarpatra
৫ October ২০২৬ ২১:২৩
অধিকারপত্র ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগের ঘটনায় থানায় এজাহার দিতে গিয়ে ১৭ নেতাকর্মী অবরুদ্ধ থাকার অভিযোগ করেছে দলটি।
এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে কুমারখালী থানায় এজাহার দিতে গেলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশ ঘিরে ফেলেন। এতে তাঁরা থানার ভেতরে আটকা পড়েন। পরে পুলিশি পাহারায় তাঁদের কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
রাতে কুমারখালী থানায় এজাহার দিতে যান এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি, সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহাসহ ১৭ নেতাকর্মী।
জান্নাতুল ফেরদৌস টনি অভিযোগ করেন, রাত হওয়ায় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ থাকায় তাঁরা মামলার কাগজ প্রস্তুত করতে পারছিলেন না। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতা চাইলে তিনি থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার কথা বলেন। তবে পরবর্তী সময়ে নানা অজুহাতে সেটি আর লিখে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
টনির দাবি, একপর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশ ঘিরে ফেলেন। এতে তাঁরা থানার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাঁদের কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাঁদের ওপর মব হামলার চেষ্টাও হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির জেলা সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করেন, মামলা নিতে পুলিশ নানা অজুহাত দেখিয়েছে। প্রথমে মামলা লিখে দেওয়ার কথা বলা হলেও রাত ১২টার দিকে জানানো হয়, থানায় মামলা লেখা সম্ভব নয়।
তাঁর দাবি, পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা থানার ভেতরে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এমনকি দুই শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী থানার ভেতরে ঢুকে তাঁদের উদ্দেশে স্লোগান দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তালহা এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বলেন, হামলায় কারা জড়িত ছিলেন, তা ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাবে।
তবে এনসিপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জের ধরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এনসিপির নেতাকর্মীদের থানায় অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, থানার ভেতরে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা ছিলেন। তবে কাউকে অবরুদ্ধ করা হয়নি।
এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা না নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি। তাঁর ভাষ্য, এনসিপির নেতাকর্মীরা লিখিত এজাহার নিয়ে এলে তিনি মামলা নিতেন। কিন্তু তাঁরা লিখিত এজাহার নিয়ে আসেননি।
থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। হামলার ধরন বা কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত না থাকায় নিজের পক্ষ থেকে মামলা লিখে দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে এনসিপির নেতাকর্মীদের পুলিশি পাহারায় কুষ্টিয়া শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওসি জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, তাঁরা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালে পুলিশ প্রটোকল দিয়ে তাঁদের কুষ্টিয়া শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লালন আখড়াবাড়ি থেকে গান শুনে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কাচ ভাঙচুর করা হয় বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে লালন মাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মাজার এলাকা থেকে বের করে আনা হয়। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এনসিপি। তবে হামলার ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্তের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।