10/11/2026 রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ছাত্রদলের সাবেক নেতা রাজিব আহমেদের
odhikarpatra
১১ October ২০২৬ ২০:১৬
ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি ছাড়লেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা রাজিব আহমেদ
শেরপুর প্রতিনিধি | অধিকারপত্র ডটকম
রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শেরপুর জেলা শাখার সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক রাজিব আহমেদ। রাজনৈতিক পথচলায় অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে এ ঘোষণা দেন তিনি।
‘বিদায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়’
ফেসবুক পোস্টে রাজিব আহমেদ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি, আবেগ, ভালোবাসা, ত্যাগ ও অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘রাজনীতির পথচলায় আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছি, যেখানে পেছনে তাকালে স্মৃতি, আবেগ, ভালোবাসা, ত্যাগ ও অপ্রাপ্তির গল্প ভেসে ওঠে। রাজনীতি একসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার স্বপ্ন ছিল। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে।’
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এই বিদায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, কারও প্রতি বিদ্বেষ কিংবা অতীতকে অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত নয়। বরং জীবনের একটি অধ্যায় থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এটি।
রাজনৈতিক জীবনে যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে যাঁদের সঙ্গে মতের অমিল হয়েছে, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা থাকার কথা জানান।
ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রাজিব আহমেদ।
তিনি লেখেন, ‘রাজনীতি জীবনের একটি অধ্যায় মাত্র; কিন্তু মানুষ হিসেবে আমাদের পরিচয়, বিবেক, সম্পর্ক আর মানবিকতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
পদ-পদবি ও পরিচয়ের জৌলুস একসময় শেষ হয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার জায়গা করে নেওয়াকেই জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
মানবিকতা ও সততা নিয়ে বাকি জীবন কাটানোর প্রত্যয়
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন রাজিব আহমেদ। জীবনের বাকি সময় সততা, সম্মান ও মানবিকতা নিয়ে চলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তাঁর এই পোস্টের পর স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
রাজিব আহমেদের এই ঘোষণা তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেছে। তবে রাজনীতি ছাড়ার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, ঘটনা বা সাংগঠনিক বিরোধকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেননি তিনি।