10/12/2026 বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপানের মারুবেনি, দ্বিতীয় কাফকো নিয়ে আলোচনা
odhikarpatra
১১ October ২০২৬ ২২:২৯
বিশেষ প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি কর্পোরেশন। একই সঙ্গে দেশে দ্বিতীয় একটি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়গুলো সাংবাদিকদের জানান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা
বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে আগামী এক বছরের মধ্যে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার চালুর পরিকল্পনা নিয়েও কথা হয়। প্রকল্পটিতে মারুবেনির বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মারুবেনি কর্পোরেশনকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সেবার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তায় গুরুত্ব
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রকৌশল স্নাতকদের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় আরও দক্ষ করে তোলার সরকারি পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই নয়, কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাতেও সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষি খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং এ ক্ষেত্রে মারুবেনির বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় স্থান পায়।
দ্বিতীয় কাফকো স্থাপনের সম্ভাবনা
সার উৎপাদন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান কাফকোতে মারুবেনি কর্পোরেশনের বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন করে দ্বিতীয় একটি কাফকো স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মারুবেনি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে নতুন কাফকো স্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, প্রকল্পের স্থান, ব্যয় কিংবা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে বৈঠকের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিনিয়োগ চূড়ান্তকরণ এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।
পাটজাত পণ্যে পুরোনো সম্পর্ক, নতুন সহযোগিতার প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মারুবেনি কর্পোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য, প্রযুক্তি, কৃষি, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।
মারুবেনি কর্পোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু ওয়াকামোরি এবং বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারা।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সার উৎপাদন খাতে নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে এ আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে আলোচিত প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত অগ্রগতি নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।