10/13/2026 ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: তারেক রহমান
odhikarpatra
১২ October ২০২৬ ১৬:৫০
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
অধিকারপত্র ডটকম | বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করতে সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
দুর্গাপূজার আমন্ত্রণ জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় তাঁরা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।
সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কাজ করা হয়েছে, তা থেকে সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায়। আরও কিছু বিষয়ে সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই দেশের নাগরিক
দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, জাতির সংকটময় মুহূর্তগুলোতে যখন ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি, তখন নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ নেই। দেশ স্বাধীন করার পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্যাতনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচ্য ছিল না
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আল্লাহ তাঁকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। নিজের অবস্থান ও ক্ষমতার মধ্যে থেকে ধর্মীয় পরিচয় নয়, মানুষ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিককে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন তিনি।
### নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নাগরিক ও মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার এবং যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করাই তাঁর কর্তব্য। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না বলে তাঁদের বক্তব্য। সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তাঁরা।
মতবিনিময়ে যারা উপস্থিত ছিলেন
সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাসসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। মতবিনিময়কালে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও উপস্থিত ছিলেন।