10/13/2026 ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
odhikarpatra
১২ October ২০২৬ ২৩:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি আয়কর আদায়ের পথ সুগম হয়েছে। এ-সংক্রান্ত দুটি পৃথক রিট খারিজ করে দেওয়া হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে রায় দিয়েছিলেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন অনুসারে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া কর আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ফলে পাঁচটি করবর্ষের কর পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটগুলো খারিজ হওয়ায় এনবিআরের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ সম্পন্ন হলো।
পাঁচ করবর্ষের কর নিয়ে বিরোধ
এনবিআরের দাবি করা অর্থটি ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষের আয়করসংক্রান্ত। গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে কর পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিট দুটি যথাক্রমে ১৭৭২৭/২০১৭ ও ১৪৩৬৪/২০১৭ নম্বরের।
বিরোধের মূল বিষয় ছিল গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে চুক্তির আওতায় গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থের প্রকৃতি। গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষের যুক্তি ছিল, সংশ্লিষ্ট আয়ের বিপরীতে কর আগেই পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে কর কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, ওই অর্থকে লভ্যাংশের আয় হিসেবে নয়, বরং অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসেবে গণ্য করে কর নির্ধারণ করা যায়।
রায়ে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষকে আইন অনুযায়ী বকেয়া কর আদায়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আরেকটি রায়ে চাহিদাপত্র বা নোটিশ জারির মাধ্যমে বকেয়া কর আদায়ের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার উদ্যোগ নেবে। ফলে আপিল বিভাগে পরবর্তী কোনো আদেশ বা স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে কর আদায়ের প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়া এবং করের অর্থ বাস্তবে আদায় হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, আদালতের রায়ে এনবিআরের দাবিকৃত কর আদায়ের পথ সুগম হয়েছে; তবে পুরো অর্থ ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট,