10/13/2026 গাজার খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৩
odhikarpatra
১৩ October ২০২৬ ০৩:১৪
আন্তর্জাতিক সংবাদ | অধিকারপত্র ডটকম
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার নিহতদের জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশ নেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর আল জাজিরার।
মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার স্থানেও হামলা
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, খান ইউনিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় আল-বুরাক অঞ্চলে নাসের হাসপাতালের কাছাকাছি একটি তাঁবুতে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তাঁবুটি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইসরায়েলি ড্রোন থেকে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে তাঁরা জানান।
হামলার পর নিহতদের মরদেহ ও আহত ব্যক্তিদের নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে নিহতদের পরিচয় এবং আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বাড়ছে উত্তেজনা
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটল। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হামলাগুলো গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ঘটেছে।
আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে শনিবার ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে গুরুতর আহত ছয় বছর বয়সী এক শিশুও রোববার মারা যায়। এ ছাড়া গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান সম্প্রসারণের ঘটনায় দুই ফিলিস্তিনি আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
প্রাণহানি ও মানবিক সংকট অব্যাহত
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪৮৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ২৮১ জন আহত হয়েছেন।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও নতুন হামলা, বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের কারণে গাজার মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
মূল সূত্র: [আল জাজিরার মূল প্রতিবেদন]