10/15/2026 এলপিজি নিয়ে কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি জ্বালানিমন্ত্রীর
odhikarpatra
১৪ October ২০২৬ ২১:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে বাজারে কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এটির সরবরাহ ব্যাহত করে জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে সরকার তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার প্রভাব দেশের এলপিজি বাজারেও পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে।
এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে তৃতীয় বৈঠক
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে এটি সরকারের তৃতীয় বৈঠক। এর আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতেও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
আগামী ২০ অক্টোবর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবারও আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সরবরাহব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এলপিজি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এর সরবরাহ নিয়ে কারসাজি, জনগণকে জিম্মি করা কিংবা ধর্মঘটের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন ডিলার ও বিক্রেতারা
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিপণনের সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
তিনি জানান, ডিলার ও বিক্রেতারা তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরের সরবরাহ কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে বৈঠকে আলোচিত কৌশলগুলো প্রকাশ করার সময় এখনো আসেনি বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
বাণিজ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী, সরবরাহ নিয়ে কারসাজি বা বাজারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, এলপিজির সঙ্গে দেশের লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত। রান্নাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে এ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে সরকার প্রস্তুত উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো দাবি বা সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় আলোচনার উদ্যোগ
সরকারের লক্ষ্য ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা। এ জন্য এলপিজি অপারেটর ও ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সম্ভাব্য ধর্মঘটের কারণে বাজারে যাতে সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া ও ধর্মঘটের হুমকির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা পরবর্তী আলোচনার পর স্পষ্ট হতে পারে।