10/17/2026 চুয়েটে সিন্ডিকেটের ৩ সিদ্ধান্ত, শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আহ্বান
odhikarpatra
১৬ October ২০২৬ ২৩:৩৬
অধিকারপত্র ডটকম | ক্যাম্পাদ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান একাডেমিক অচলাবস্থা নিরসনে তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেট। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আহ্বান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের নিয়ে সমন্বিত আলোচনা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত বা পরামর্শক কমিটি গঠনের সুপারিশ।
সভায় অংশ নেন পাঁচ সিন্ডিকেট সদস্য
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিন্ডিকেটের পাঁচ সদস্য অংশ নেন। তাঁরা হলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান এবং চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সভায় চুয়েটের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। সভার আলোচ্যসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবি পর্যালোচনা করে একাডেমিক অচলাবস্থা দূর করা এবং নিয়মিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর রূপরেখা নির্ধারণের বিষয়টি ছিল।
শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আহ্বান
সিন্ডিকেটের প্রথম সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং সম্ভাব্য সেশনজটের ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ, শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দ্রুত নিয়মিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অংশীজনদের নিয়ে সমন্বিত আলোচনার উদ্যোগ
দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠনের সুপারিশ
তৃতীয় সিদ্ধান্তে চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং টেকসইভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত কমিটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের প্রস্তাব দেবে বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধ থেকে অচলাবস্থা
চুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিও যুক্ত হয়। এতে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ঘিরে আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে চুয়েটের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসন এবং শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর পথ তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।