10/21/2026 চুয়েটের সংকট নিরসনে ইউজিসির ৬ সদস্যের কমিটি, নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি
odhikarpatra
২০ October ২০২৬ ২২:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | অধিকার পত্র ডটকম
প্রায় এক মাস ধরে অচলাবস্থায় থাকা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে সংকট নিরসনে গঠিত এ কমিটিতে চুয়েটের কোনো শিক্ষক বা প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করে গঠিত কমিটি চলমান সংকট সমাধানে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কমিটি গঠন করে ইউজিসি। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে। সদস্যসচিব করা হয়েছে ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসানকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বলেন, চুয়েটের চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াই এ কমিটির মূল লক্ষ্য।
তবে কমিটিতে চুয়েটের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, চুয়েটের সমস্যা নিরসনে গঠিত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়েরই কেউ নেই। তাঁর প্রশ্ন, যে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই সভাতেও যদি চুয়েটের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি অংশ না নেন, তাহলে সংকটের সমাধান কীভাবে হবে?
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ছাড়া সংকট নিরসনের উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। পূজার ছুটির পর আবারও সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালনের কথাও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে ক্লাস, পরীক্ষা, ব্যবহারিক পাঠদানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।
গত ১২ অক্টোবর সকালে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভেতরে রেখেই প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দেন।
পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রায় ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ অক্টোবর তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরে গেলেও পরদিন সকালে সেখান থেকে চলে যান।
গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় অনলাইনে চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। ১৫ সদস্যের সিন্ডিকেটের মধ্যে মাত্র ছয়জন সভায় অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সভায় চুয়েটের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরপর ১৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে চুয়েটের সংকট নিরসন এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পরামর্শক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউজিসি ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে।
তবে কমিটিতে চুয়েটের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে এ উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। দ্রুত সংকট সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও দীর্ঘ সময় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে ইউজিসির ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সেই কমিটিতে রাখা হয়নি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কোনো শিক্ষক বা প্রতিনিধিকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচিতে প্রায় এক মাস ধরে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও ব্যবহারিক পাঠদান। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পূজার ছুটির পর আবারও সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা।
চুয়েটের প্রতিনিধি ছাড়া সংকট নিরসনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে?
বিস্তারিত পড়ুন অধিকার পত্র ডটকমে।