10/25/2026 ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন চার পাঠ্যবই আসছে, গুরুত্ব খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষায়
odhikarpatra
২৪ October ২০২৬ ২৩:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের দুটি শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বইগুলোতে খেলাধুলা, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্যের বরাতে এ কথা জানানো হয়।
নতুন বই চারটি হলো—চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।
এনসিটিবি জানিয়েছে, বইগুলোর পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর মুদ্রণের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি ছাপানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
### খেলাধুলায় শারীরিক বিকাশ ও আত্মরক্ষার শিক্ষা
চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো, সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহ দেওয়া এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরিই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার মতো খেলার নিয়মকানুন তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষামূলক কৌশল সম্পর্কেও শিক্ষার্থীরা জানার সুযোগ পাবে।
খেলাধুলার সময় আঘাত পাওয়া, মচকানো, নাক দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়গুলোও বইটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি, সামাজিক দক্ষতা ও দেশপ্রেমের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বইটিতে মেয়েদের ফুটবল দল গঠন এবং সামাজিক বাধা পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পও রাখা হয়েছে।
### ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ
চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি ১১টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে দেশের ইতিহাস, ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক রীতিনীতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের উৎসব, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পিঠা-পুলি এবং পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বইটিতে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস এবং ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে এ আয়োজনের সূচনার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে বলে বাসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
### ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’: আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখা
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য পড়াশোনাকে ভীতিমুক্ত, আনন্দদায়ক ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত করে তোলা।
এতে শুধু মুখস্থ করা কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতির পরিবর্তে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিজের স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক সম্পর্কের মতো বিষয় থেকে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বইটিতে।
### ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’য় বাস্তব দক্ষতার ওপর জোর
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটি আটটি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখা, সমস্যা সমাধান এবং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করাই এর উদ্দেশ্য।
বইটিতে কারিগরি শিক্ষার পরিচিতি, দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন নয়, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজা এবং ছোট উদ্যোগের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাবে বলে আশা করছে এনসিটিবি।
### ভবিষ্যতে আরও শ্রেণিতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বাসসকে জানান, চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক শিক্ষা চালুর পর পর্যায়ক্রমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, নতুন চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ অক্টোবর এনসিসির অনুমোদনের পর মুদ্রণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মাদ আবু নাসের টুকুর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণের কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে।
নতুন বইগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আনন্দ, সাংস্কৃতিক পরিচয়, শারীরিক বিকাশ এবং বাস্তব দক্ষতার সমন্বয় ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বইগুলোর চূড়ান্ত অন্তর্ভুক্তি ও বাস্তবায়ন নির্ভর করছে নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
: নতুন শিক্ষাবর্ষে আসছে ৪ নতুন বই, কী থাকছে শিক্ষার্থীদের জন্য?
: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই, এনসিটিবি, নতুন পাঠ্যক্রম, খেলাধুলা বই, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, আমার কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষা সংবাদ বাংলাদেশ
: #নতুনপাঠ্যবই #শিক্ষাক্রম২০২৭ #এনসিটিবি #শিক্ষাব্যবস্থা #কারিগরিশিক্ষা #খেলাধুলা #অধিকারপত্রডটকম