10/29/2026 বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা, জাপানের সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর
odhikarpatra
২৭ October ২০২৬ ২৩:৫২
বিশেষ প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, রেল যোগাযোগ ও শিল্প উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। তাঁর মতে, জাপানের বিনিয়োগ শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫ হাজার কোটি ইয়েন সহায়তার আলোচনা
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় পাঁচ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে ঘোষিত অর্থায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত অর্থপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই; এগুলোর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন এবং উন্নত প্রযুক্তিতে যৌথ সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন তারেক রহমান।
মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, নতুন শিল্প স্থাপন এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
ছয় বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করতে দ্রুতগতির রেলের আলোচনা
বাংলাদেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে সংযুক্তকারী দ্রুতগতির রেল যোগাযোগব্যবস্থা এবং আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।
এ ছাড়া গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নে বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা কামনা করেন।
চার দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে রয়েছেন তারেক রহমান। সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানতেইতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর তাঁরা যৌথ বিবৃতি দেন এবং কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সরকার ও দেশটির জনগণের আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তাঁর সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থবহ কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।