04/18/2026 শৈশবের শুরুতে নানা বর্ণিল আয়োজন, আর ১১ মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত পদচারণা— বাংলাদেশের প্রাক শৈশব যত্ন ও শিক্ষায় (ECCE) বৈচিত্র্যময় বৈষম্য
Dr Mahbub
১৮ April ২০২৬ ০৭:২৯
—অধিকারপত্র শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিক
বাংলাদেশের প্রাক-শৈশব যত্ন ও শিক্ষা (ECCE) খাত আজ এক অভূতপূর্ব বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে, যেখানে একযোগে কাজ করছে ১১টি মন্ত্রণালয় ও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। শিশুর জন্মের পর থেকেই তার পুষ্টি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শিক্ষার সমন্বিত বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে নীতিমালা, কাঠামো ও কর্মসূচি। কিন্তু এই বৈচিত্র্যময় আয়োজনের আড়ালে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এক কঠিন বাস্তবতা—সমন্বয়ের ঘাটতি, ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈষম্য, এবং নীতির সাথে বাস্তবতার ফারাক। শহর ও গ্রামের শিশু, সক্ষম ও প্রতিবন্ধী শিশু, ছেলে ও মেয়ে—সবার জন্য কি সমান শৈশব নিশ্চিত হচ্ছে? এই অনুসন্ধানধর্মী ফিচারটি তুলে ধরে শৈশবের সূচনালগ্ন থেকেই তৈরি হওয়া বৈষম্যের চিত্র, সমন্বয়হীন প্রশাসনিক কাঠামোর চ্যালেঞ্জ, এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও মানবিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের জরুরি আহ্বান।
শৈশবের বর্ণিল বুনন: বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও আগামীর স্বপ্নসারথি
ভোর হয়। কুয়াশাচ্ছন্ন মেঠোপথ ধরে কিংবা শহরের ব্যস্ত ফুটপাত পেরিয়ে একদল খুদে প্রাণ হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলে স্কুলের দিকে। তাদের পিঠের ব্যাগে হয়তো মস্ত বড় কোনো বইয়ের বোঝা নেই, কিন্তু চোখে রয়েছে এক পৃথিবী কৌতূহল। এই শিশুরা আমাদের আগামীর কারিগর। একটি চারাগাছ যেমন শুরুতে সঠিক যত্ন, মাটি আর আলো-বাতাস পেলে মহীরুহ হয়ে ওঠে, তেমনি একটি শিশুর জীবনের প্রথম আট বছর বা 'আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশন' (ECCE) তার সারাজীবনের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক ও শৈশবকালীন পরিচর্যার বিষয়টি এখন আর কেবল বিলাসিতা নয়, বরং একটি জাতীয় প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।
ঘুমভাঙা আলোয় প্রথম পাঠ
যখন শিশুটি প্রথম চোখ মেলে, তখন থেকেই তার শেখার যাত্রা শুরু। আদরের এই প্রাণটির জন্য প্রথম তিন বছর মানেই ভিত গড়ার সময়। এই ভিতটা যে কত নাজুক, কত সূক্ষ্ম, তা বোঝেন মা-বাবা আর সেইসব মানুষ, যারা শিশুর ঘুমভাঙা আলোয় বর্ণমালা নয়, বরং বিশ্বাস, ভালোবাসা আর নিরাপত্তার বীজ বপন করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই কাজটা কিন্তু কোনো একক হাতের নয়। বরং এটি এক বিরল সম্মিলিত প্রয়াস, যেখানে একযোগে কাজ করছে ১১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। আর এই বিশাল আয়োজনের মাঝে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MoWCA)।
ভোরের আলো: শৈশবকালীন যত্নের গুরুত্ব
গবেষণা বলছে, মানুষের মস্তিষ্কের প্রায় ৯০ শতাংশ বিকাশ ঘটে পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে। এই সময়ে শিশু যা শেখে, যেভাবে চারপাশকে চেনে, সেটিই তার পরবর্তী জীবনের আচরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসিইসিই (ECCE) বা শৈশবকালীন যত্ন ও শিক্ষা মানে কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়; এটি শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার এক সমন্বিত রূপ।
গ্রামীণ জনপদে এক সময় ধারণা ছিল, শিশু একটু বড় হলে সরাসরি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন বাড়ির পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই সুসজ্জিত প্রাক-প্রাথমিক কক্ষটি শিশুদের চুম্বকের মতো টানে। দেয়ালে আঁকা রঙিন মানচিত্র, বর্ণমালা আর মাটির তৈরি খেলনা যেন এক রূপকথার জগত। এই পরিবেশই শিশুকে শেখায় দলগত কাজ, একে অপরকে সাহায্য করা এবং নিয়মানুবর্তিতা।
খেলার ছলে শেখা: পাঠদানের নতুন আঙ্গিক
ইসিইসিই-র মূল দর্শন হলো 'প্লে-বেসড লার্নিং' বা খেলার মাধ্যমে শিক্ষা। ইউনিসেফ সমর্থিত প্রোগ্রামগুলোতে শিশুদের ওপর বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তাদের সৃজনশীলতাকে উসকে দেওয়া হয়। মাটির পুতুল বানানো, ছড়া বলা, ছবি আঁকা কিংবা দলবেঁধে গান গাওয়ার মাধ্যমে তারা প্রাথমিক গণিত বা ভাষার ধারণা পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে শেখা শিশুরা যখন প্রথম শ্রেণিতে ওঠে, তাদের ঝরে পড়ার হার (Dropout rate) অনেক কম থাকে। তারা স্কুলের পরিবেশের সাথে আগে থেকেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
পুষ্টি ও স্বাস্থ্য: শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ
শৈশবকালীন যত্ন কেবল স্কুলের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। ইউনিসেফের প্রতিবেদনটি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে যে, পুষ্টিহীন শিশু কখনো মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে, কারণ গর্ভকালীন সময় থেকেই একটি শিশুর মস্তিষ্কের গঠন শুরু হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, 'কমিউনিটি ক্লিনিক' এবং 'মা সমাবেশ' গুলোর মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মায়েরা এখন জানেন, শিশুকে স্কুলে পাঠানোর আগে তার সুষম খাবার নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।
ভিন্ন বয়সে ভিন্ন আয়োজন, কে কী করেন?
শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার চাহিদা বদলায়। তাই দেশের শিক্ষা ও যত্নকাঠামোও নানা স্তরে বিভক্ত। সবচেয়ে ছোটরা—যাদের বয়স শূন্য থেকে তিন বছর—তাদের জন্য আছে MoWCA-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টার। মায়ের কোলে না থাকার সময়টুকু যেন শিশুর জন্য কেবলই খেলা আর যত্নের নামান্তর হয়, সেদিকে নজর রাখে এই মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমিও (যা MoWCA-র অধীন) কাজ করে শিশুর মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে।
শিশু যখন চার বছরে পা দেয়, তখন শুরু হয় প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার (Pre-primary Education) আনুষ্ঠানিক পর্ব। এটির দায়িত্বে থাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (MoPME) এবং এর অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)। তারাই তৈরি করে স্কুলভিত্তিক এই ব্যবস্থা, যেখানে শিশু বর্ণচিহ্নের সঙ্গে পরিচিত হয় খেলার ছলে। আর এই শিক্ষার রূপরেখা ও পাঠ্যবই বানায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE) তৈরি করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের গাইডলাইন, যেন সেই শিক্ষকরাই জানেন কীভাবে শিশুর হাত ধরে শেখার জগতে এগিয়ে দিতে হয়।
শরীর ও মন—স্বাস্থ্যের ছোঁয়া, সুরক্ষার বেড়াজাল
শুধু পড়া আর খেলা নয়; শিশুর সুস্থ থাকাটাও জরুরি। সেই দায়িত্ব পালন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (MoHFW)। তারা নিশ্চিত করে পুষ্টি, টিকা আর প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিশুদের জন্য আলাদা করে গড়ে তোলা হয়েছে স্থানীয় উপযোগী শিক্ষাকেন্দ্র। সেগুলোর দেখভাল করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আর সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য এগিয়ে আসে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
একসঙ্গে এতগুলো মন্ত্রণালয় যখন কাজ করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই নানা বৈচিত্র্য তৈরি হয়। কোনো কেন্দ্রে জোর দেওয়া হয় খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষায়, কোনোখানে দেওয়া হয় পুষ্টির ওপর, আবার কোনো এলাকায় বাজেটের অভাবে সীমিত থাকে পরিকাঠামো। এই বৈচিত্র্য আসলে দেশের বাস্তবতারই প্রতিফলন—কিন্তু একইসঙ্গে এটিই বড় চ্যালেঞ্জ। এই সব ভিন্ন সুরকে একসূত্রে গাঁথার কাজটি সহজ নয়।
একটি নীতিমালার ছাতা, বহু স্বপ্নের বুনন
এই বিশাল আয়োজনকে গতিশীল করতে আছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একটি হলো কম্প্রিহেন্সিভ আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ECCD) পলিসি ২০১৩। অন্যটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫)। এই নীতিমালাগুলোতে বলা আছে, শৈশব বিকাশকে খণ্ডিত না দেখে একটি সমন্বিত (integrated) পদ্ধতিতে দেখা হবে। অর্থাৎ, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা, শিক্ষা—সবকিছু একসঙ্গে যাতে শিশু পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
কিন্তু বাস্তবে এই একীভূত পদ্ধতি কতটা সফল? খেলাঘরে বসে শিশুর হাসি, প্রি-প্রাইমারি ক্লাসে তার আঁকিবুঁকি আঁকা—এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক জটিল প্রশাসনিক জাল। তবুও, এগারোটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠছে বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ। শৈশবের এই বৈচিত্র্যময় আয়োজন হয়তো একদিন আমাদের সব শিশুকে নিয়ে দাঁড় করাবে এমন এক ভোরে, যেখানে তাদের কোনো পেছনে ফেলে রাখা হবে না।
এক দশকের রূপান্তর: নীতি ও বাস্তবতা
বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে গত এক দশক এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সাক্ষী। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে সরকার পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাজার হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন প্রাক-প্রাথমিকের জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের ১১টি মন্ত্রণালয় প্রাক-শৈশব যত্ম ও শিক্ষায় কাজ করছে।
তবে এই পথ চলা সবসময় মসৃণ ছিল না। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ভৌগোলিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। হাওর অঞ্চল, পার্বত্য জেলা কিংবা শহরের বস্তি এলাকার অনেক শিশু এখনো মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলের শিশুরা যখন স্কুলে পৌঁছায়, তখন তাদের ভাষাগত বা পারিপার্শ্বিক জড়তা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লেগে যায়। এই শূন্যতা পূরণে কাজ করছে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা।
একসঙ্গে এতগুলো মন্ত্রণালয় যখন কাজ করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই নানা বৈচিত্র্য তৈরি হয়। কিন্তু এই বৈচিত্র্যের গায়ে মেখে আছে আরেক কঠিন বাস্তবতা—বৈষম্য। শৈশবের এই ভোরবেলাতেই যেন অদৃশ্য এক হাত কিছু শিশুকে এগিয়ে দেয়, আবার অনেককে পিছিয়ে ঠেলে দেয়।
দোলনার অদৃশ্য দেয়াল—শুরু হয় বৈষম্য
শিশুটি যখন দোলনায় শোয়া শেখে, তখন থেকেই তার চারপাশের সমাজ অদৃশ্য কিছু রেখা টেনে দেয়। গ্রামের শিশু আর শহরের শিশুর প্রথম স্কুলের মধ্যে ফারাক লেগে যায় প্রকাণ্ড। ঢাকা শহরের কোনো অভিজাত ডে-কেয়ারে শিশু পায় রঙিন খেলনা, পুষ্টিকর খাবার আর প্রশিক্ষিত আয়া। কিন্তু পাহাড়ি কিংবা চরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুটি বসে কাঁদা মেঝেতে; তার ‘স্কুল’ বলতে নেই কোনো টিনশেড ঘর, নেই খেলার সামগ্রী, প্রায়ই থাকে না অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। এই বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি সামাজিক ও ভৌগোলিক। আদিবাসী শিশুর মাতৃভাষায় যদি না হয় প্রাক্-প্রাথমিকের পাঠ, তাহলে সেই শিশু প্রথম ক্লাসেই পিছিয়ে পড়ে। প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য মানিয়ে নেওয়া কোনো সরঞ্জাম নেই অধিকাংশ কেন্দ্রেই—সে থাকে বাড়িতে, বাকি সবার শেখার আনন্দ থেকে ছিটকে পড়ে।
আরও গভীর বৈষম্য লুকিয়ে থাকে লিঙ্গভিত্তিক ধারণায়। অনেক পরিবারই ছেলের প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করে; মেয়ের শৈশবের যত্নটাকে ভাবে সংসারের কাজ শেখার প্রস্তুতি হিসেবে। ফলে স্কুলমুখী হওয়ার আগেই মেয়েশিশুরা হারায় সমান সুযোগ। এই বৈষম্যের চক্র ভাঙার কথা বলেছে ২০১৩-এর ECCE নীতি, কিন্তু বাস্তবের মাঠে এখনো সেই প্রতিশ্রুতি আটকে আছে প্রশাসনিক জটিলতায়। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো ১১টি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করলেও, তারা যখন পৃথক পৃথক পথে হাঁটে, তখন সবচেয়ে দুর্বল শিশুটিই পড়ে থাকে ফাটলের ভেতরে।
সমান শুরু, ন্যায্য সুযোগ—এখনই সময়
বৈষম্যের এই গল্প যেন বদলায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি মাত্র সুষম খাবার, একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক, একটি নিরাপদ ঘর—এই সামান্য উপকরণই পারে দোলনার সেই অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে দিতে। চট্টগ্রামের পাহাড়ে কিংবা বরিশালের চরে যদি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একই মানের প্লে-সেন্টার পৌঁছে যায়, যদি NCTB-র পাঠ্যবই সব মাতৃভাষায় অনূদিত হয়, যদি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আলাদা সহায়ক উপকরণ নিশ্চিত করে, তাহলেই সম্ভব বৈষম্যহীন শৈশবের স্বপ্ন দেখা।
শিশুর প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা, প্রথম বিদ্যালয়ের দিন—সবখানেই যেন পাওয়া যায় ন্যায্য সুযোগ। এগারোটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যদি শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষুদ্রতম শিশুটির মুখে হাসি ফোটায়, তাহলেই প্রকৃত সফলতা। আগামীর বাংলাদেশকে গড়তে হলে দোলনা থেকেই দূর করতে হবে বৈষম্যের কালো ছায়া।
ছোট্ট ফাটল, বড় প্রাচীর—যে ক্ষত কখনো শুকায় না
শৈশবের সেই ছোট্ট অবহেলা, সেই অভুক্ত ভোর, মলিন ঘরের মেঝেতে বসে পড়া ফাটা বই—এগুলো কি শুধুই স্মৃতি? না, গবেষকরা বলছেন, এ যেন গাছের গোড়ায় দেওয়া এক ফোঁটা বিষ। দিনশেষে গাছ হয় বাঁকা, ফুল দেয় না ঠিকমতো। ঠিক তেমনি শিশুটির প্রথম তিন বছর থেকে পাঁচ বছর বয়সী এই সময়টুকুতে বৈষম্যের যে বীজ পড়ে, তা ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হয় অসম সুযোগে, অসম আয়ে, অসম স্বাস্থ্যে। একটি মেয়ে শিশু যদি প্রি-প্রাইমারিতেই পিছিয়ে পড়ে, তবে সে কখনোই সমান দক্ষতায় পৌঁছতে পারে না পঞ্চম শ্রেণিতেও। একটি প্রতিবন্ধী শিশু যদি তিন বছর বয়সে কোনো থেরাপি না পায়, তবে তার শেখার সীমাটা সারা জীবনই সঙ্কুচিত থাকে। এই দোলনার বৈষম্যই পরিণত বয়সে দাঁড়ায় কর্মসংস্থানের অসমতা, নারী-পুরুষের মজুরির ফারাক, এমনকি অপরাধের হার পর্যন্ত। সমাজ যেন সেই মানুষটিকে ‘পিছিয়ে পড়া’ তকমা দেয়, অথচ সেই পিছিয়ে পড়া শুরু হয়েছিল পঞ্চাশ বছর আগে এক ফেলে আসা প্রাতঃরাশে, অথচ সেই ফাঁকে ফাঁকে এগারো মন্ত্রণালয়ের জটিল জালে ছিটকে পড়া এক মলিন শিশুহাতে।
ভাঙা চক্র বানাতে পারে সুস্থ সমাজ—কিন্তু সময় কমছে
অর্থনীতির ভাষায় একে বলে ‘পুঞ্জীভূত বঞ্চনা’ (cumulative deprivation)। শৈশবের একটি ঘাটতি ডেকে আনে আরেকটি ঘাটতি। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমশক্তির যে অংশটি ‘অদক্ষ’ থেকে যাচ্ছে, তার গোড়ার কারণ অনেকটাই এই প্রারম্ভিক বৈষম্য। যখন একটি শিশু সুস্থভাবে ঘুমায়নি, ঠিকমতো খায়নি, খেলেনি, তখন তার মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশ গঠনই হয় অসম্পূর্ণ। সেই শিশু বড় হয়ে পড়তে পারে মাদকাসক্ত, হতে পারে সহিংস, অথবা চিরকালের জন্য নির্ভরশীল। আর সে যখন বাবা-মা হয়, তখন সেই অভাবের চক্র সে বয়ে নিয়ে যায় তার সন্তানের কাঁধেও। একে বলে ‘দারিদ্র্যের আন্তঃপ্রজন্ম সংক্রমণ’।
এই চক্র ভাঙতে দরকার এখনই সিদ্ধান্তমূলক কাজ। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় যদি শুধু নীতি না বানিয়ে কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি পুষ্টিকে জরুরি সেবা ঘোষণা করে, আর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যদি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আবশ্যিক ভর্তি নিশ্চিত করে—তবেই সম্ভব। প্রতিটি টাকা যা এখন প্রি-প্রাইমারি শিক্ষায় বিনিয়োগ হবে, তা পরবর্তী জীবনে ফিরিয়ে দেবে দশগুণ। কিন্তু সেই বিনিয়োগ করতে দেরি হলে, এক প্রজন্ম হারানোর দাম দেশ দিতে রাজি নয়। শৈশব ফিরে আসে না। আর ফিরে আসে না সেই সুযোগ, যখন একটি শিশুর চোখে প্রথমবারের মতো অদৃশ্য দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে জেগে ওঠে প্রশ্ন—‘আমি কেন ওই শিশুটির মতো হতে পারলাম না?’
চ্যালেঞ্জ এবং আগামীর পথ
সাফল্য অনেক থাকলেও পথ এখনো দীর্ঘ। বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন শিক্ষককেই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর দেখভাল করতে হচ্ছে। এছাড়া অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা তো রয়েছেই। শহরের বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলোতে উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র শিশুরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
ইউনিসেফের সুপারিশ অনুযায়ী, এই খাতে সরকারি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ইসিইসিই-কে আরও সম্প্রসারিত করতে হবে। বর্তমানে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু থাকলেও এটিকে দুই বছরে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সমতার শৈশব গড়তে হলে চাই পাঁচটি অস্ত্র
শৈশবের এই বৈষম্যের দেয়াল ভাঙতে হলে দরকার সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি স্তম্ভের কথা বলছেন। প্রথমত, একটি ‘একীভূত শৈশব সেবা কাঠামো’ তৈরি করতে হবে—যেখানে এগারো মন্ত্রণালয়ের কাজ থাকবে এক ছাতার নিচে, দ্বৈততা থাকবে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি ‘মডেল আর্লি চাইল্ডহুড সেন্টার’ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে গ্রাম-শহর-পাহাড়-চর সব অঞ্চলের শিশুরা পাবে একই মানের পুষ্টিকর খাবার, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও নিরাপদ পরিবেশ। তৃতীয়ত, এনসিটিবি-কে সব প্রাক্-প্রাথমিক পাঠ্যবই মাতৃভাষায় ও ব্রেইলসহ সব প্রতিবন্ধী-বান্ধব ফরম্যাটে ছাপাতে হবে। চতুর্থত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টিকা ও পুষ্টি সেবা যেন প্রতিটি ডে-কেয়ার ও প্রি-প্রাইমারি স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি—যেখানে মা-বাবাদের শেখানো হবে, মেয়ে ও ছেলে সন্তানের শৈশব যত্নে কোনো ভেদাভেদ রাখা যাবে না। এই পাঁচটি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কোনো শিশুই আর পিছিয়ে থাকবে না দোলনা থেকে শুরু হওয়া সেই অদৃশ্য দৌড়ে।
বাস্তবের জটিল জাল—কেন হচ্ছে না তা বাস্তবায়ন?
তাহলে কেন এত সহজ ও জরুরি এই পদক্ষেপগুলো এখনো বাস্তবায়িত হচ্ছে না? উত্তরটা সোজা নয়। প্রথম বাধা হলো ‘মন্ত্রণালয়ের ছত্রছায়া’। এগারোটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিটির নিজস্ব বাজেট, নিজস্ব পরিকল্পনা, নিজস্ব কমিটি। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমন্বয় করতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের ডেটা ভাগ করতে রাজি নয়, আবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের পাঠ্যক্রম অন্য কারও অধীনে দিতে চায় না। দ্বিতীয় বাধা ‘বাজেটের বণ্টনগত অসাম্য’। শৈশব শিক্ষায় বরাদ্দ থাকলেও তা যায় মূলত বেতন-ভাতায়; কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছানো, প্রতিবন্ধী-বান্ধব উপকরণ—এসবের জন্য বাজেট থাকে অপ্রতুল। তৃতীয় বাধা ‘মানবসম্পদের সংকট’। প্রশিক্ষিত প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষকের অভাব প্রকট, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আর চতুর্থ বাধা ‘রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের তালিকা’।
ভোটের মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, কলেজ—এগুলো দৃশ্যমান ইস্যু। কিন্তু শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু যে ভোট দিতে পারে না, তাই তাদের চাহিদা সহজেই পেছনে ঠেলে যায় নীতিনির্ধারকদের টেবিলে। এছাড়াও আছে ‘সামাজিক প্রতিরোধ’—অনেক অভিভাবকই এখনো বিশ্বাস করেন, ছোটবেলায় খেলাধুলা নয়, পড়া লেখা দরকার। অথচ মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, খেলাই হলো শিশুর সবচেয়ে বড় পাঠশালা। এই নানা টানাপড়েনের কারণে বহু বছর ধরে প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাংলাদেশের শৈশবের অর্ধেকটাই রয়ে গেছে অন্ধকারের এক কোনায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, দক্ষ ও সমান সুযোগের অধিকারী করতে চাইলে এখনই সময় ভাঙা এই জাল ছিঁড়ে ফেলার। কারণ দোলনা থেকে শুরু হওয়া ফারাক সারা জীবন কাটিয়ে ওঠা যায় না—সেটা প্রমাণিত সত্য।
পথচলা—সমন্বয় থেকে একীকরণ, নীতি থেকে বাস্তব
এগারো মন্ত্রণালয়ের এই জটিল জালকে আর জটিল না রেখে সহজ করে তোলার সময় এখনই। পথচলার প্রথম সোপান হতে পারে একটি ‘ন্যাশনাল আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠন—যেখানে সব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে একটি নির্বাহী কমিটির হাতে। দ্বিতীয়ত, সরকারের চলমান ‘মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্ট ফোর্টিফিকেশন’ ও ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ নেটওয়ার্কের সঙ্গে ডে-কেয়ার ও প্রি-প্রাইমারি স্কুলগুলোকে সরাসরি যুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ‘শৈশব বাজেট’ বাধ্যতামূলক করতে হবে, যেখানে ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দ থাকবে শুধু শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সীদের জন্য। চতুর্থত, বেসরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় ‘মোবাইল আর্লি লার্নিং ভ্যান’ চালু করা যেতে পারে। আর সবচেয়ে জরুরি, প্রতিটি প্রি-প্রাইমারি শিক্ষককে জাতীয় পেশাদার সনদ দেওয়া এবং তাদের বেতন কাঠামো প্রধান শিক্ষকের কাছাকাছি নিয়ে আসা—তাহলেই এই পেশায় মেধাবীদের আগমন বাড়বে। প্রতিবেশী দেশ ভুটান ও ভিয়েতনামের উদাহরণ দেখায়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে মাত্র পাঁচ বছরে শৈশব শিক্ষার আওতা দ্বিগুণ করা সম্ভব।
চূড়ান্ত প্রতিফলন—একটি জাতির ভবিষ্যৎ দোলনায় দুলছে
শিশুটির প্রথম হাসি, প্রথম ধরা হাত, প্রথম আঁকা দাগ—এগুলো কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। এগুলো একটি জাতির সামষ্টিক সম্পদ। বাংলাদেশ যখন স্মার্ট বাংলাদেশ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) আর উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের স্বপ্ন দেখে, তখন সেই স্বপ্নের ভিত গড়তে হবে দোলনা থেকেই। ১১টি মন্ত্রণালয় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শিশুর ভাগ্য লেখে—কিন্তু লেখাটা যেন হয় সমান কলমে, একসুরে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি শিশু আর খুলনার সুন্দরবন ঘেঁষা শিশু; ঢাকার বস্তির শিশু আর রাজশাহীর গ্রামের শিশু—সবার প্রথম বিদ্যালয়ের ডেস্কটা যেন হয় সমান মজবুত, সমান রঙিন।
অনেক দেরি হয়ে গেছে কি? না, এখনও সময় আছে। কারণ শৈশব মানেই পুনর্গঠনের অফুরান সম্ভাবনা। প্রতিটি বিলম্ব কিন্তু একেকটি হারানো প্রজন্ম। শৈশব যত্ন ও শিক্ষায় বৈচিত্র্য থাকবে—সেটা স্বাভাবিক। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে আয়োজন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু বৈষম্য থাকতে পারে না। আর সেই বৈষম্য দূর করার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; সমাজের, পরিবারের, গণমাধ্যমের, সবার। আজকের শিশু আগামীর বাংলাদেশকে গড়বে। সেই শিশুকে যদি আমরা সমান সুযোগ দিতে না পারি, তবে উন্নত বাংলাদেশ কেবল থাকবে প্রতিবেদনের কল্পকথায়। অথচ চাইলে এই কল্পকথাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। সূচনা হোক আজ থেকেই—একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটানোর মধ্য দিয়ে, যে হাসি একদিন ফুটবে গোটা জাতির মুখে।
শেষ কথা: স্বপ্নের বুনন
একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে শৈশবে। আজকের যে শিশুটি রঙিন ক্লাসরুমে বসে মাটির খেলনা দিয়ে ঘর বানাচ্ছে, সেই হয়তো আগামী দিনে ডিজিটাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। শৈশবকালীন যত্ন ও শিক্ষা কোনো করুণা নয়, এটি প্রতিটি শিশুর অধিকার।
ইউনিসেফের এই কান্ট্রি রিপোর্ট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিক্ষার ভিত্তি যদি শক্ত না হয়, তবে উচ্চশিক্ষার সুউচ্চ অট্টালিকা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে। তাই সরকারের পাশাপাশি অভিভাবক, সমাজ এবং আমাদের সবাইকে শিশুদের সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে। ভোরের সূর্য যেমন দিনকে আলোকিত করে, তেমনি আমাদের শিশুদের সঠিক বিকাশই আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে।
শিশুরা হাসলে হাসবে বাংলাদেশ, আর সেই হাসির কারিগর হোক আমাদের মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
–অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)
#শৈশব #ECCE #প্রাকপ্রাথমিকশিক্ষা #শিক্ষাবৈষম্য #শিশুরঅধিকার #InclusiveEducation #EarlyChildhoodDevelopment #বাংলাদেশশিক্ষা #PolicyToPractice #ChildEquity #SDG4 #EducationReform #শিক্ষাসংস্কার #অধিকারপত্র