আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ, অবকাঠামো ধ্বংস এবং চলাচলে বিধিনিষেধ আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হেবরন গভর্নরেটের বিভিন্ন এলাকায় ৪৮৮টি পরিবারের ৩ হাজার ১৭১ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে হেবরন শহরের বাসিন্দা ৩ হাজার ৪৩ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবারের এক গুলির ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরনে অভিযান জোরদার করা হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই অভিযানের পক্ষে কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের কথা বলেছেন। অভিযানের সময় বাড়িঘর তল্লাশি, সড়ক বন্ধ, ভবন ধ্বংস এবং ফিলিস্তিনিদের আটক করার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হেবরনের গভর্নর খালেদ দুদিন ও শহরের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলজাজিরা বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম চার দিনে অন্তত ৭১ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অনেকেই নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ। তাঁদের কয়েকজনের বাড়ি সামরিক অবস্থান ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলা বিশ্লেষকদের মতে, বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস এবং দীর্ঘমেয়াদি চলাচল-নিষেধাজ্ঞা বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এতে ফিলিস্তিনিদের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া এবং স্বাভাবিক জীবন পুনর্গঠনের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।
এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আগের ১২ মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মধ্যে ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। তবে চলমান অভিযানের প্রভাব কত দিন স্থায়ী হবে এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো কবে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: আলজাজিরা, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর।**
পশ্চিম তীরে বাড়িঘর ছাড়ছেন ফিলিস্তিনিরা, নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে ইসরায়েল!
#ফিলিস্তিন #পশ্চিমতীর #হেবরন #ইসরায়েল #মধ্যপ্রাচ্য #আন্তর্জাতিকসংবাদ #অধিকারপত্রডটকম
