ক্রাইম প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
তারিখ: সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ‘মব’ সহিংসতায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়ার মৃত্যু হয়েছে দুই দফা মারধরের কারণে—এ তথ্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন গ্রেপ্তার আসামি মো. জোবায়ের হোসেন (২৯)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান জানান, জবানবন্দিতে আসামি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত নাঈম কিবরিয়া (৩৫) ছিলেন পাবনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী।
ঘটনার পরদিন ১ জানুয়ারি নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ৪ জানুয়ারি গুলশান এলাকা থেকে র্যাব-১ আসামি জোবায়ের হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতকে জানান, আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।
জবানবন্দির আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে—জোবায়ের হোসেনসহ কয়েকজন দুই-তিনটি মোটরসাইকেলে করে নাঈম কিবরিয়ার প্রাইভেট কারকে ধাওয়া করেন। পরে বসুন্ধরা আই ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের মুখে গাড়িটি আটকে নাঈমকে প্রথম দফায় মারধর করা হয়।
এরপর তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে আই ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অজ্ঞাতনামা আরও সাত–আটজন মিলে নাঈমকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, জোবায়ের হোসেন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন এবং মারধরে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। জামিন পেলে তাঁর পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি দাবি করেন, নিহত নাঈমের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ছিল না। তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বশে এই সহিংস ঘটনা ঘটে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: