বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
হংকংয়ে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে। বুধবার রাতে শুরু হওয়া ভয়াবহ আগুনের তাণ্ডবে এখনও অনেকে নিখোঁজ, আর তাদের খোঁজে দমকল বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে বহুতল ভবনের প্রতিটি কক্ষে।
দমকল কর্মীরা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কমপ্লেক্সের শেষ ফ্ল্যাটগুলো ঘুরে ঘুরে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। আটটি আবাসিক টাওয়ারের বিশাল এই কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পর চারটি ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুরো কমপ্লেক্সে রয়েছে প্রায় ২ হাজার আবাসিক ইউনিট।
হাসপাতালে ৫০+ আহত, বহুজনের অবস্থা গুরুতর
অগ্নিকাণ্ডে আহত ৫০ জনেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে
– ১২ জনের অবস্থা সংকটজনক
– ২৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
নিখোঁজ মানুষের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত বহু পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনের খোঁজে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলের আশপাশে অপেক্ষা করছেন।
আগুন ছড়িয়েছে খুব দ্রুত—প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
সুয়েন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন—
“আগুন এত দ্রুত ছড়াচ্ছিল যে কয়েকটি ভবনকে পানি দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা খুব ধীর গতির লাগছিল।”
শুক্রবার ওয়াং ফুক কোর্টে উপস্থিত এএফপি’র প্রতিবেদক জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা অনেকটা কমলেও ভবনের ভেতর থেকে এখনো ধোঁয়া ও স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে।
কীভাবে আগুন লাগল—বাঁশের মাচা ও নির্মাণকাজ তদন্তে
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় ধরনের সংস্কার কাজ চলায় ভবনগুলোর চারপাশে থাকা বাঁশের মাচা ও প্লাস্টিকের সেফটি নেট আগুন ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা ইতোমধ্যে সংস্কার প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।
অবহেলার অভিযোগে তিনজন গ্রেফতার
অগ্নিকাণ্ডের স্থানে ফোম প্যাকেজিং অবহেলাভাবে ফেলে রাখা এবং তা থেকে আগুন ছড়ানোর সন্দেহে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
ওয়াং ফুক কোর্টের বাসিন্দারা বলছেন, এই অগ্নিকাণ্ড শহরের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হয়ে থাকবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: