বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। সরকারের জারি করা ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট এখন পাচ্ছে স্বতন্ত্র সচিবালয়, যা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।
রবিবার রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশ জারি করে। উপদেষ্টা পরিষদে ২০ নভেম্বর খসড়া অনুমোদনের ১০ দিনের মাথায় অধ্যাদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।
যা থাকছে অধ্যাদেশে
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ৭ নম্বর ধারা ছাড়া বাকি সবই অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
ধারা ৭ কার্যকর হবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের পূর্ণ গঠন ও কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর।
ধারা ৭-এর মূল বিষয়সমূহ—
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় হবে সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান
- সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারক নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা কার্যক্রম রাষ্ট্রপতির পক্ষে পরিচালনা করবে সচিবালয়
- সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শে রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে
- আইন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা প্রশাসনিক পদায়নের কাজ করা হবে সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের বিধিমালা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে
বিচার বিভাগ পৃথক সচিবালয়ের ইতিহাস
বাংলাদেশে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।
১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মামলার রায় (মাসদার হোসেন মামলা) অনুসারে ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন বিচার বিভাগের পক্ষে রায় দেয়। সেই রায় বাস্তবায়নের দীর্ঘ ২৬ বছর পর এলো পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত।
২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি উদ্যোগ নিয়ে পৃথক সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান, যা একাধিক ধাপ পেরিয়ে ২০২৫ সালে অনুমোদন পায়।
যা পরিবর্তন হতে যাচ্ছে
অধ্যাদেশ পুরোপুরি কার্যকর হলে—
- নিম্ন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা, ছুটি—সব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়
- শুধুমাত্র বিচারকার্যে নিয়োজিত বিচারকরা থাকবেন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের নিয়ন্ত্রণে
- কমিশন, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকরা থাকবেন আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন—কয়েক মাসের মধ্যেই উচ্চ আদালতের সচিবালয় পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: