বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
কুমিল্লা—ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাস উল্টে অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বাসের এক যাত্রীর সঙ্গে চালক ও তাঁর সহকারীর তর্কাতর্কি হয়। এতে চালক অমনোযোগী হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়কে একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
বাসের যাত্রী মামদ নেয়ামত উল্লাহ, যিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী, জানান—দাউদকান্দির আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এক যাত্রী বাসে ওঠেন এবং কুমিল্লায় নামতে চাইলে চালক নির্দিষ্ট স্থানে থামাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে চালক বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নেয়ামত উল্লাহ আরও জানান, তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাঁর বাড়ি চান্দিনা উপজেলার আড়ুয়ারা গ্রামে।
দুর্ঘটনায় আহতদের প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত ১২ জনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর দুপুর দুইটার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহগুলো হাইওয়ে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। স্বজনরা শনাক্ত করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: