odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 11th January 2026, ১১th January ২০২৬
সুশাসন ব্যর্থতায় ইসলামী ব্যাংক খাতে অনিয়ম, নতুন আইন ও সুকুক বাজারের ইঙ্গিত

সুশাসনের অভাবে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে লুটপাট, কঠোর বার্তা গভর্নরের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ January ২০২৬ ২০:৪০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ January ২০২৬ ২০:৪০

বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং খাত নীতিগতভাবে নিরাপদ অর্থায়ন ব্যবস্থা হলেও সুশাসনের ঘাটতির কারণে এই খাতে ভয়াবহ লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো সাধারণ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমানতকারীদের সন্তোষজনক মুনাফা দিতে সক্ষম হলেও নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির অভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীরা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থায়ন ও ব্যাংকিং সম্মেলন’–এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ।

গভর্নর জানান, অনিয়মের দায় কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও শরীয়াহ বোর্ড—সবার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ফলেই ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীরাও তাদের অর্থের ব্যবহারের বিষয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন তোলেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংকিং কেবল ধর্মীয় অনুভূতির বিষয় নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা—এমন মন্তব্য করে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের মোট ব্যাংকিং খাতের এক-চতুর্থাংশের বেশি অংশ এখন শরীয়াহভিত্তিক। ভবিষ্যতে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত থাকায় তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে শরীয়াহভিত্তিক বন্ড বা সুকুক বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে এবং দেশের বৃহত্তম ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে বলেও জানান গভর্নর। তার আশা, ভবিষ্যতে দেশে অন্তত দুটি শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক গড়ে উঠবে, যারা সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমানতকারীদের ভালো রিটার্ন নিশ্চিত করবে।

গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা এখনও অটুট রয়েছে। গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি আমানত এসেছে এই খাতেই এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া সহায়তার অর্থ ফেরত দিয়েছে।

ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি নতুন ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে শরীয়াহ বোর্ডকে আরও শক্ত ও সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো আর্থিক লুটতন্ত্র ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও শক্ত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই এখন ইসলামী ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

 

 

🔴 সুশাসনের অভাবে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে লুটপাট, কঠোর বার্তা গভর্নরের

#ইসলামী_ব্যাংকিং #বাংলাদেশ_ব্যাংক #ড_আহসান_এইচ_মনসুর #সুশাসন #ব্যাংকিং_খাত #অর্থনীতি #সুকুক #IslamicBankingBangladesh

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: