odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 11th January 2026, ১১th January ২০২৬
নস্টালজিয়া, আবেগ ও ডিজিটাল যত্ন—তামাগোচির পুনর্জাগরণ। ডিজিটাল পোষ্যের সঙ্গে বাস্তব জীবনের আবেগী বন্ধন।

পিক্সেল প্রেমে মাতোয়ারা বিশ্ব: ৩০ বছরেও কেন জনপ্রিয় তামাগোচি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১১ January ২০২৬ ০০:২০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১১ January ২০২৬ ০০:২০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

আপনি কি আমাকে বিয়ে করবেন? ঠিক এই কথাটিই উইলিয়াম মানেজা নামের এক যুবক কোনো রক্ত-মাংসের মানুষকে নয় বরং অদ্ভুত এক পরিবেশে এক অপরিচিতার দিকে তাকিয়ে বলছিলেন। তবে এই প্রস্তাবে কোনো হীরা বা সোনার আংটি ছিল না। তার পরিবর্তে দুজনেই বের করলেন ছোট একটি ডিম্বাকৃতির খেলনা তামাগোচি। পিক্সেলের পর্দায় সম্পন্ন হলো তাদের ভার্চুয়াল পোষা প্রাণীদের বিয়ে। সম্প্রতি টরন্টোর সেসিল কমিউনিটি সেন্টারে এমন এক বিচিত্র তামাগোচি বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় ২০০ জন ভক্ত অংশ নেন। ১ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয় ১৬২টি ডিজিটাল বিয়ে। নব্বই দশকের এই খেলনাটি ২০২৬ সালে এসেও যে কতটা জনপ্রিয় তা এই আয়োজন থেকেই স্পষ্ট।

নব্বইয়ের নস্টালজিয়া থেকে আধুনিক ক্রেজ:

১৯৯৬ সালে জাপানি কোম্পানি বান্দাই (Bandai) প্রথম তামাগোচি বাজারে আনে। পকেটে রাখা যায় এমন এই ডিজিটাল পোষা প্রাণীটি দ্রুত বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে এটি ছিল বর্তমানের স্মার্টফোনের মতোই অপরিহার্য। বর্তমানে এর বিক্রয় সংখ্যা ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যা সনি প্লে-স্টেশন বা নিনটেন্ডো সুইচের মতো গেমিং কনসোলের জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিচ্ছে। চলতি বছর তামাগোচির ৩০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে টোকিওতে বিশেষ প্রদর্শনী থেকে শুরু করে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড 'ইউনিক্লো' (Uniqlo)-এর সাথে মার্চেন্ডাইজ উন্মোচন করা হয়েছে।

কেন এখনো তামাগোচি?

বিশেষজ্ঞ এবং ভক্তদের মতে তামাগোচির জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে তিনটি মূল কারণ:

মানসিক প্রশান্তি ও থেরাপি: মানসিক স্বাস্থ্য থেরাপিস্ট ড. জেসিকা লামার জানান, ডিজিটাল পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়া মানুষের মধ্যে এক ধরনের রুটিন তৈরি করে যা উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। উইলিয়াম মানেজা জানান অতিমারির সময় দাদির মৃত্যুর পর তামাগোচিই তাকে বিষণ্ণতা থেকে দূরে রেখেছিল।

সহজ সংযোগ: জটিল থ্রিডি গেমের যুগেও তামাগোচির সরলতা মানুষকে আকর্ষণ করে। সারা সেরানো-এসকুইলিন নামের এক ভক্ত জানান ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের সাথে শেষ দিনগুলোতে তামাগোচি নিয়ে খেলা তাদের সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছিল।

ফ্যাশন ও সংগ্রহ: আধুনিক তামাগোচিগুলো এখন শুধু খেলনা নয়, বরং একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। সান ফ্রান্সিসকোর এরিনা হাসেগাওয়া তার পোশাকের সাথে মিলিয়ে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১,৭০০টি তামাগোচি সংগ্রহ করেছেন।

বিবর্তিত প্রযুক্তি:

নব্বই দশকের সেই সাদাকালো পিক্সেলের তামাগোচি এখন অনেক উন্নত। ২০২১ সালে এসেছে ক্যামেরা যুক্ত 'তামাগোচি পিক্স', ২০২৩ সালে এসেছে ওয়াই-ফাই চালিত তামাগোচি ইউনি। এমনকি গত বছর মুক্তি পেয়েছে তামাগোচি প্যারাডাইস, যেখানে মিনি-গেম ও চরিত্র প্রজননের সুবিধা রয়েছে।

একটি বৈশ্বিক সম্প্রদায়:

টরন্টো থেকে চিলি, ফ্রান্স থেকে ফিলিপাইন বিশ্বজুড়ে গড়ে উঠেছে তামাগোচি ক্লাব। টরন্টো তামাগোচি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা টুয়ি গ্রে বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আমাদের খেলার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ খুব কম থাকে। তামাগোচি সেই অভাবটাই পূরণ করছে। যান্ত্রিক এই যুগে তামাগোচি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যত্ন এবং মমতা তা ডিজিটালই হোক বা বাস্তব তা মানুষকে একসূত্রে বাঁধতে আজও সক্ষম।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: