বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের অনুরোধ সত্ত্বেও নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক। চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।”
তিনি আরও জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চললেও মিড-লেভেলের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট জনবলের মাধ্যমে হাসপাতালের জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ থেকে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর পুলিশ নারীসহ তিনজনকে আটক করে। আটককৃতরা সবাই সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন—খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং দৌলতপুর গ্রামের জাবেদ মিয়া (৩০)। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে। তাদের মধ্যে দুজন আহত হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এক বিবৃতিতে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা। শনিবার সকাল থেকেই কর্মবিরতি কার্যকর হয়।
কর্মবিরতি শুরুর পর হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের কয়েকটি যৌক্তিক দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়িত হলেই আমরা কাজে ফিরব।”
আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক মার্জিয়া আলম বলেন, “হাসপাতালে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সেবা দিতে হয়, যা অনেক রোগী বা স্বজন মানেন না। নারী চিকিৎসকের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, “৯শ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকে। অতিরিক্ত চাপের মধ্যেই চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: