odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 15th March 2026, ১৫th March ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানের বিপ্লবীরাই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে: ডিজিটাল ইনোভেশন এক্সপোতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

"চাকরি এক ধরণের আধুনিক দাস প্রথা!"—ডিজিটাল এক্সপোতে একি বললেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস?

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৮ January ২০২৬ ১৫:৫৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৮ January ২০২৬ ১৫:৫৩

প্রতিবেদক: জুলাই আন্দোলনের তরুণ বিপ্লবীরাই ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের সাহস ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে পরিচিত করেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইন্টারনেট ও গণঅভ্যুত্থান: প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন দমাতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই পদক্ষেপই জনবিক্ষোভকে তীব্রতর করে তুলেছিল। মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং প্রযুক্তিগত শক্তিই একটি মহাশক্তিশালী সরকারের পতন ত্বরান্বিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল খাতই এখন দেশের মূল চালিকাশক্তি।

চাকরি নিয়ে নতুন দর্শন: বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান নিয়ে ড. ইউনূস এক বৈপ্লবিক মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণাটি আসলে একটি ভুল পথ। এটি এক ধরনের আধুনিক ‘দাস প্রথার’ শামিল।" তিনি মানুষকে গতানুগতিক চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকারকে এ ক্ষেত্রে কেবল সহায়কের ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেন।

প্রশাসনিক সংস্কার ও জালিয়াতি রোধ: সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের ধরনেও পরিবর্তনের তাগিদ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি মনে করেন, কোনো কর্মকর্তার পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয়, কারণ দীর্ঘ সময় একই কাজ সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে বাংলাদেশ জালিয়াতিতে বিশ্বে নেতিবাচকভাবে পরিচিত হয়েছে, যা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা: তিন পার্বত্য জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার দৈন্যদশা তুলে ধরে ড. ইউনূস জানান, সেখানে আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ইন্টারনেট ছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই হতে পারে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: