প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ডেস্ক, অধিকার পত্র ডটকম
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশ-এর মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৬০ জন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে ইরানের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিকভাবে হামলা চালানো হয়। ইরানি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
মিনাব শহরের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেদমেহের জানিয়েছেন, হামলার সময় বিদ্যালয়টিতে ১৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বার্তা সংস্থা Reuters-কে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে এ হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কয়েক সপ্তাহ আগে। একই সংস্থাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কয়েক দিন ধরে এ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ উস্কানিমূলক, অবৈধ এবং অন্যায্য।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এখন ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’-এ পরিণত হয়েছে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: