odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 1st March 2026, ১st March ২০২৬
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত; হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

ইরানের পাল্টা হামলায় উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: আক্রান্ত দুবাই-কুয়েত, বন্ধ হচ্ছে হরমুজ প্রণালি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৮ February ২০২৬ ২৩:২০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৮ February ২০২৬ ২৩:২০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর, ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। দুবাই, কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েতের মতো অঞ্চলগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

ঘটনার সূত্রপাত: ইরান শাসকের কম্পাউন্ডে হামলা

শনিবার ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে এক "সুপরিকল্পিত" অভিযান চালায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) দাবি করেছে, তারা ইরানের শাসনব্যবস্থার বেশ কয়েকজন "শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বকে" নির্মূল করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দপ্তরের (লিডারশিপ হাউস) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছে।

ইরানের পাল্টা আঘাত: জ্বলছে দুবাই ও কুয়েত

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি শুরু করে।

দুবাই: বিলাসবহুল পাম জুমেইরাহ দ্বীপে অবস্থিত 'ফেয়ারমন্ট হোটেল' একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পর্যটন নগরী দুবাইয়ের আকাশে আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়া উড়ছে।

কুয়েত: কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে।

বাহরাইন ও কাতার: মার্কিন নৌ-ঘাঁটি থাকা বাহরাইন এবং কাতারের দোহাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগজনক খবর হিসেবে ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্প: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার-এ-লাগো থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি একে "বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান" হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইরানি জনগণকে বর্তমান সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছেন।

কিয়ার স্টারমার: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মিত্রদের রক্ষায় ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টহল দিচ্ছে। তিনি ইরানকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা জীবিত আছেন এবং ইরান আত্মরক্ষার স্বার্থে এই হামলা চালাচ্ছে। তবে তিনি শর্তসাপেক্ষে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে লন্ডনের রাস্তায় নির্বাসিত ইরানিদের এক পক্ষকে এই হামলার সমর্থনে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করছে ইরানের শাসনব্যবস্থা বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং এ মুহূর্তকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ইরানের আঞ্চলিক পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; আরও তথ্য নিশ্চিত হলে আপডেট দেওয়া হবে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে।

---মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: