নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
উত্তর কোরিয়ার শাসনভার কি শেষ পর্যন্ত কিম জং উনের মেয়ে কিম জু আয়ে-র হাতেই যাচ্ছে নাকি নেপথ্য কারিগর হিসেবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা বোন কিম ইয়ো জং কেড়ে নেবেন সেই জায়গা? সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই দুই নারীর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
বোন কিম ইয়ো জং-এর উত্থান
গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (KCNA) জানিয়েছে কিম জং উনের ছোট বোন কিম ইয়ো জং-কে শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টি'র ডিরেক্টর হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পলিটব্যুরোর সদস্য পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার (NIS) সাবেক কর্মকর্তাদের মতে কিম ইয়ো জং বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র ও আন্তঃকোরীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
আকর্ষণের কেন্দ্রে কিম জু আয়ে
অন্যদিকে কিম জং উন তার মেয়ে কিম জু আয়ে-কে (আনুমানিক বয়স ১৩ বছর) বারবার জনসমক্ষে নিয়ে আসছেন। সামরিক প্যারেড থেকে শুরু করে মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সবখানেই বাবার পাশে দেখা যাচ্ছে তাকে। বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন এটি জু আয়ে-কে ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
সম্ভাব্য সংঘাত ও বিশেষজ্ঞদের দ্বিমত
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাহ জং-ইল মনে করেন মেয়ের এই আকস্মিক উত্থান কিম ইয়ো জং-এর সঙ্গে একটি গোপন ক্ষমতার লড়াই (Power Struggle) উসকে দিতে পারে। তবে এই তত্ত্বে দ্বিমত পোষণ করেছেন অন্য বিশেষজ্ঞরা। সাবেক এনআইএস ডেপুটি চিফ হান কি বাম একে স্বল্প বিশ্বাসযোগ্য অনুমান বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে বয়স বাধা জু আয়ে-র বয়স মাত্র ১৩ বছর যা উত্তরসূরি হওয়ার জন্য অনেক কম।
নেতৃত্বের সংহতি: কিম জং উন বর্তমানে পূর্ণ ক্ষমতায় আছেন। আগামী দুই দশকের মধ্যে তার বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা না হলে উত্তরসূরি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রতীকী উপস্থিতি: জু আয়ে-র উপস্থিতি আসলে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শাসনের ধারাবাহিকতা এবং নিরাপত্তার বার্তা দেয়।
বোন কি বাধা হতে পারেন?
সাবেক দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তা জং জুন হি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি কিম ইয়ো জং কখনো কিম জং উনের পরিকল্পনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান, তবে নিজের বোন হওয়া সত্ত্বেও কিম তাকে সরাতে দ্বিধা করবেন না। তবে কিম জং উনের আকস্মিক মৃত্যু হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে সামরিক শক্তির সমর্থনে কিম ইয়ো জং একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে আবির্ভূত হতে পারেন। উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী ক্ষমতা সাধারণত সরাসরি বংশধরদের (Direct Descendants) কাছে যায়। সেক্ষেত্রে বোনের চেয়ে মেয়ের দাবিই বেশি জোরালো হওয়ার কথা।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
কিম জং উন এবং তার বোন দুজনেই সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু জু আয়ে এখন এতই পরিচিত হয়ে গেছেন যে তার পক্ষে বিদেশে গিয়ে পরিচয় গোপন রেখে পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ঘরের ভেতরেই তাকে বড় করে তোলা ও গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে কিম প্রশাসনকে। আপাতত কিম পরিবারের দুই শক্তিশালী নারীর মধ্যে কোনো প্রকাশ্য লড়াই দেখা না গেলেও কিম জং উনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এই দুই মেরুর ভারসাম্য রক্ষার ওপরই নির্ভর করছে।
---মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: