odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 4th March 2026, ৪th March ২০২৬
ইরান ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত ব্রিটেন: স্টারমারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিরোধীরা, সতর্ক অবস্থানে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট

আকাশ থেকে শাসন পরিবর্তন সম্ভব নয়: ট্রাম্পকে কড়া বার্তা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৪ March ২০২৬ ০১:৩৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৪ March ২০২৬ ০১:৩৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। পার্লামেন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন ব্রিটেন আকাশপথ থেকে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের (regime change from the skies) নীতিতে বিশ্বাসী নয়।

মূল সংঘাতের সূত্রপাত

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ি নিহত হন। এই হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রিটেন তাদের সামরিক ঘাঁটি (দিয়েগো গার্সিয়া ও আরএএফ ফেয়ারফোর্ড) ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। স্টারমার এই সিদ্ধান্তকে ইরাক যুদ্ধের ভুল থেকে নেওয়া শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অবস্থানের পরিবর্তন ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ

প্রাথমিক হামলায় অংশ না নিলেও রবিবার ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এবং ব্রিটিশ স্বার্থের ওপর আক্রোশমূলক ড্রোন ও মিসাইল হামলার পর স্টারমার সুর নরম করেন। সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ ঘাঁটি আরএএফ আক্রোতিরি (RAF Akrotiri)-তে ড্রোন হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন যুক্তরাজ্য এখন ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তবে তা শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। ইরানের মিসাইল অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে যাতে ব্রিটিশ নাগরিক ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো আক্রমণাত্মক (offensive) অভিযানে অংশ নিচ্ছি না।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:

উতপ্ত হাউস অফ কমন্স স্টারমারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:

বিরোধী দল (কনজারভেটিভ): দলীয় নেত্রী কেমি ব্যাডেনক অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার উদাহরণ টেনে স্টারমারকে দ্বিধাগ্রস্ত ও বিলম্বকারী বলে সমালোচনা করেন।

রিফর্ম ইউকে: রিচার্ড টাইস অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনকে লজ্জিত করেছেন।

বামপন্থী ও অন্যান্য দল: লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং গ্রিন পার্টি এই হামলাকে অবৈধ ও বেপরোয়া বলে অভিহিত করেছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সমালোচনা করে একে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ১ লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিককে সরকারের কাছে নাম নিবন্ধনের অনুরোধ জানিয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় প্রয়োজনে উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পুনরায় আশ্বস্ত করেছেন যে ব্রিটেন বর্তমানে কোনো যুদ্ধে লিপ্ত নয়।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: