অধিকার পত্র ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনে অন্তত ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গ্রাম ও পৌরসভার বাইরের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ বলে জানা গেছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
মেহেরপুরের এক বাসিন্দা জানান, দিন-রাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক সময় রাতে চার থেকে পাঁচবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবারই এক থেকে দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে বিদ্যুতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ নির্ভর এলাকাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে লোডশেডিং কম হলেও সেখানেও দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকলেও উৎপাদন অনেক সময় ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটে সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে পিক আওয়ারে ঘাটতি ১,৮০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে এর বড় অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকটকে বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া কয়লাভিত্তিক কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় উৎপাদন আরও কমে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে এবার জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সরবরাহ চেইনের সমস্যার কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অফিস সময় কমানো, শপিংমল দ্রুত বন্ধ করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ চলছে এবং দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সামনে তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
যেদিন কম সেদিনও ৭ ঘণ্টা, কখনো ১০ ঘণ্টা—দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং
#লোডশেডিং #বিদ্যুৎসংকট #বাংলাদেশ #জ্বালানিসংকট #গরম #পিডিবি

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: