অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যখন ক্রমেই ধর্মীয় বিভাজনের রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় ইরানের ইহুদি সম্প্রদায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই যুদ্ধকে ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। রাজধানী তেহরানে এক সমাবেশে তারা শান্তির পক্ষে এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছেন।
বার্তাসংস্থা Reuters জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তেহরানের ইউসেফ আবাদ সিনাগগে ইরানের ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যরা একত্রিত হন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই তারা প্রার্থনা ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা প্রথমে ইরানের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর দেশের বিপ্লবী ও ধর্মীয় নেতাদের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কমিউনিটির নেতাদের বক্তব্য শোনেন।
সম্প্রদায়ের সদস্য এলি ইয়াহু বলেন, এই সংঘাতকে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। তার মতে, এটি মূলত ইরান এবং ‘জায়োনিজম ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’-এর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ইহুদিরা দীর্ঘদিন ধরে অন্য নাগরিকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।
২০২৩ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানে প্রায় ৯ হাজার ইহুদি বসবাস করেন। আরেক সদস্য মারজানি ইয়াশায়েই আশা প্রকাশ করেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ হবে।
ইরানের ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতা ইউনেস হামামি লালেহজার বলেন, সহিংসতাকে বৈধতা দিতে কোনোভাবেই ইহুদি ধর্মকে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, যে পক্ষেরই হোক না কেন, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরে তা লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বেসামরিক নাগরিক। সংঘাতের প্রভাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সীমিত করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট।
হরমুজ প্রণালি তেহরান ইহুদি সম্প্রদায় হিজবুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ তেহরান ইরান ইহুদি সম্প্রদায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ হিজবুল্লাহ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: