odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 26th June 2026, ২৬th June ২০২৬
কোটি বছরের পুরোনো আগ্নেয় ইতিহাসের সূত্রে বারমুডার অস্বাভাবিক অবস্থানের ব্যাখ্যা দিলেন বিজ্ঞানীরা

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ‘রহস্য’ উন্মোচনে নতুন গবেষণা, মিললো বিস্ময়কর ভূতাত্ত্বিক তথ্য

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১২ May ২০২৬ ১৬:১৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১২ May ২০২৬ ১৬:১৫

অধিকারপত্র ডটকম আন্তর্জাতিক অনলাইনডেস্ক প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬,        ৪:১৮ PM

আটলান্টিক মহাসাগরের বহুল আলোচিত বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল—কেন বারমুডা দ্বীপ আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় এত উঁচুতে অবস্থান করছে, যদিও এর আগ্নেয়গিরিগুলো প্রায় ৩ কোটি বছর আগে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে? এবার মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছে, তারা এই রহস্যের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এ গবেষণার নেতৃত্ব দেন William Fraser এবং Jeffrey Park। গবেষণার তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বারমুডা এমন এক বিশেষ ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার মতো গঠন পৃথিবীর অন্য কোথাও এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

সাধারণত Hawaii–এর মতো আগ্নেয় দ্বীপমালাগুলো “ম্যান্টল প্লুম” নামের উত্তপ্ত শিলাস্তম্ভের কারণে তৈরি হয়। পৃথিবীর গভীর ম্যান্টল থেকে উঠে আসা গরম ও হালকা শিলা উপরের দিকে ধাক্কা দিয়ে আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি করে এবং সমুদ্রতলকে ফুলিয়ে তোলে। পরে টেকটোনিক প্লেট সরে গেলে আগ্নেয় কার্যকলাপ কমে যায় এবং দ্বীপ ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসে।

কিন্তু বারমুডার ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া দেখা যায়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বীপটি এখনও একটি বিশাল স্ফীত ভূখণ্ডের ওপর অবস্থান করছে, যা আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচু।

গবেষকরা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত বড় ভূমিকম্প থেকে উৎপন্ন ভূকম্পীয় তরঙ্গ বিশ্লেষণ করেন। এই তরঙ্গ পৃথিবীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করার সময় পদার্থের ঘনত্ব অনুযায়ী গতি পরিবর্তন করে। বারমুডার একটি ভূকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দ্বীপটির নিচে প্রায় ২০ মাইল গভীর পর্যন্ত ভূগর্ভের গঠন পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন।

তাদের গবেষণায় সমুদ্রীয় ভূত্বকের নিচে প্রায় ১২ মাইলেরও বেশি পুরু এক ধরনের হালকা শিলাস্তর শনাক্ত করা হয়। আশপাশের ম্যান্টলের তুলনায় এই স্তরের ঘনত্ব কম হওয়ায় এটি অস্বাভাবিকভাবে ভাসমান আচরণ করছে।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিচ থেকে কোনো নতুন প্লুম বারমুডাকে ওপরে ঠেলে দিচ্ছে না। বরং এই হালকা শিলাস্তর অনেকটা ভেলার মতো কাজ করছে, যা সমুদ্রতল ও বারমুডা দ্বীপকে দীর্ঘ সময় ধরে ভাসিয়ে রাখতে সহায়তা করছে।

গবেষকদের ধারণা, “আন্ডারপ্লেটিং” নামে পরিচিত এই স্তরটি কয়েক কোটি বছর আগে বারমুডার আগ্নেয়গিরিময় সময়কালে তৈরি হয়েছিল। সে সময় কার্বনসমৃদ্ধ গলিত ম্যান্টল শিলা ভূত্বকের নিচে প্রবেশ করে সেখানেই ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধে। পরবর্তীতে সেটিই আজকের অস্বাভাবিক ভাসমান স্তরে রূপ নেয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়, এই পদার্থের উৎস সম্ভবত পৃথিবীর গভীরে কয়েকশ কোটি বছর আগের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত, যখন সুপারমহাদেশ প্যাঞ্জিয়া গঠিত হচ্ছিল।

গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে উইলিয়াম ফ্রেজার বলেন, বারমুডা পৃথিবীর অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল। কারণ এর বৈশিষ্ট্য প্রচলিত “ম্যান্টল প্লুম” তত্ত্বের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

তিনি বলেন, “আমরা এখানে ঘন আন্ডারপ্লেটিংয়ের উপস্থিতি পেয়েছি, যা সাধারণ ম্যান্টল প্লুম অঞ্চলে দেখা যায় না। এটি ইঙ্গিত দেয়, পৃথিবীর গভীরে আরও জটিল কিছু প্রবাহগত প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে, যেগুলো এখনো পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয়নি।”

প্রসঙ্গত, Bermuda Triangle বলতে Florida, Bermuda এবং Puerto Rico–এর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝানো হয়। বহু বছর ধরে এই এলাকায় জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার নানা ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে আধুনিক বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এসব ঘটনার পেছনে অলৌকিক কোনো শক্তির প্রমাণ নেই। বরং অতিরিক্ত নৌ ও আকাশপথের ব্যবহার, আকস্মিক বৈরী আবহাওয়া, শক্তিশালী গালফ স্ট্রিম এবং মানবিক ভুলই অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: