প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬,অধিকারপত্র ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নতুন মহাকাশ মিশনের অংশ হিসেবে চীন সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে শেনঝৌ-২৩ মহাকাশযান। রোববার রাতে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে তিন নভোচারীকে নিয়ে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই মিশনে অংশ নেওয়া নভোচারীদের মধ্যে একজন মহাকাশে পুরো এক বছর অবস্থান করবেন। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিবেশে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও অভিযোজন ক্ষমতা নিয়ে গবেষণার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নভোচারী ঝু ইয়াংঝু। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ঝ্যাং ঝিয়ুয়ান এবং লাই কা-ইং। লাই কা-ইংকে চীনা কর্তৃপক্ষ মান্দারিন উচ্চারণে লি জিয়াইং নামেও উল্লেখ করেছে। হংকংয়ে জন্ম নেওয়া লাই কা-ইং এই প্রথম কোনো মহাকাশ মিশনে অংশ নেওয়া শহরটির প্রথম নভোচারী।
কম্পিউটার ফরেনসিকসে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই নভোচারীর অংশগ্রহণকে চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহাকাশচারীরা চীনের মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগং স্পেস স্টেশন-এ গিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নেবেন। পাশাপাশি বর্তমানে তিয়ানগংয়ে অবস্থানরত শেনঝৌ-২১ মিশনের সদস্যদের সঙ্গে কক্ষপথে দায়িত্ব হস্তান্তর কার্যক্রমও সম্পন্ন করবেন তারা। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম মানববাহী চন্দ্রাভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দেশটি ধারাবাহিকভাবে মহাকাশ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কর্মসূচি থেকে কার্যত বাদ পড়ার পর চীন নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন গড়ে তোলে। “
স্বর্গীয় প্রাসাদ” নামে পরিচিত তিয়ানগং স্টেশন প্রথমবারের মতো নভোচারী গ্রহণ করে ২০২১ সালে। বর্তমানে মহাকাশ গবেষণায় নাসা ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।
নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। গত বছর শেনঝৌ কর্মসূচির একটি জরুরি মিশনে ক্ষতিগ্রস্ত মহাকাশযানের কারণে আটকে পড়া নভোচারীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে চীন। সেই অভিজ্ঞতার পর এবারের মিশনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে
জিউকুয়ান উৎক্ষেপণ লাই কা-ইং চন্দ্রাভিযান নাসা চীনা নভোচারী মহাকাশ মিশন স্টেশন তিয়ানগং স্পেস শেনঝৌ-২৩ চীন

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: