নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বাংলাদেশে পৌঁছেই দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে ভারতের ভূখণ্ড ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। বাংলাদেশে এটিই তার প্রথম আগমন। সীমান্তে আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দুই দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, গণতন্ত্র এবং বহুল আলোচিত ভিসা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন।
একই আকাশ, একই বাতাস বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্যের কথা উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, দেখুন, আমি তো হেঁটেই চলে এলাম। মনেই হচ্ছে না যে আমি অন্য কোনো দেশে বা বাংলাদেশে আছি। আমি সবসময় বলি আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, একই যন্ত্র। তাহলে আমরা মিলেমিশে থাকব।
পর্যটন ভিসা ও জনসংখ্যা সমীকরণ
করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক নানা বাস্তবতায় পর্যটন ভিসা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার এক বিশাল অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত সমীকরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর এখানকার ২০ কোটি যোগ করলে হয় ১৬০ কোটি। সুতরাং, যা কিছু হবে একসঙ্গেই হবে। আলাদাভাবে আমি কিছু ভাবছি না। ভিসা জটিলতা দূর করা বা পর্যটন ভিসা পুরোদমে চালুর বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ভিসার ব্যাপারে আপনারা যা বললেন, তার সবকিছুই আমার মাথায় আছে। একটা কথাই শুধু বলে যাই, যা শুনলে সবাই খুশি হবেন ভিসা সংক্রান্ত দায়িত্বগুলো আমি নিশ্চয়ই পালন করব।
দুই গণতন্ত্রের মিলনে ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক শক্তি’
বাংলাদেশ ও ভারতের গণতান্ত্রিক ধারা এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে দারুণ এক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন নতুন এই কূটনীতিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং আমাদের (ভারতের) শক্তিশালী গণতন্ত্র এই দুই গণতন্ত্র যদি মিলেমিশে এক হয়ে কাজ করে, তবে তা একটি বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে। পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বিশাল অর্থনৈতিক বিশ্ব শক্তি হয়ে উঠবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের মানুষের নিয়মিত মেলামেশা ও যোগাযোগ জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
একই সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে সংবাদমাধ্যমের জোরালো ভূমিকা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর আগে, বেনাপোল চেকপোস্টে পৌঁছালে নতুন হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: