নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এসব চুক্তি ও দলিল বিনিময় সম্পন্ন হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
জমকালো অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান পুত্রজায়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকাল ৯টায় তাঁরা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে পৌঁছালে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।
সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা এবং মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল কর্তৃক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। অভ্যর্থনা ও পরিচয় পর্ব শেষে ভবনের প্রবেশপথে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
আনুষ্ঠানিকতা শেষে পেরদানা পুত্রা ভবনের পঞ্চম তলায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। এরপর উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম।
আলোচনার মূল ফোকাস:
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার আবার উন্মুক্তকরণ, অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের আম ও শাকসবজির প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। এ ছাড়া আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়া এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (RCEP) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
সমঝোতা স্মারক ও দলিল বিনিময়
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়। এর পাশাপাশি:
১. সন্ত্রাসবাদ দমন: সন্ত্রাসবাদ দমনে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা–সংক্রান্ত একটি দলিল।
২. বিনিয়োগ: দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি দলিল বিনিময় করা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই দলিল দুটি বিনিময় করেন। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গত রবিবার (২১ জুন) রাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছিল।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: