odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 2nd August 2026, ২nd August ২০২৬
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিতে বাংলাদেশও তালিকাভুক্ত; নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ভিসা ইস্যুর আগে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হতে পারে

মার্কিন ভিসায় নতুন শর্ত: বাংলাদেশিদেরও দিতে হতে পারে ২০ হাজার ডলারের বন্ড

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২ August ২০২৬ ০০:০০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২ August ২০২৬ ০০:০০

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত প্রথা স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এর ফলে ব্যবসা ও পর্যটন উদ্দেশ্যে (বি-১ এবং বি-২ ক্যাটাগরি) মার্কিন ভিসা পেতে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ টাকার বেশি। শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই নিয়মটি আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সে সময় কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার বা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করার সুযোগ পেতেন। তবে নতুন এবং চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের অপশনটি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং জামানতের সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো আবেদনকারীকে এই বন্ড জমা দিতে হবে কি না এবং এর পরিমাণ কত হবে, তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের যুক্তি

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার প্রবণতা রোধ করতেই এই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

অভিবাসন ও মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ

অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, এই ধরনের উচ্চ অংকের জামানত বৈধ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকেও মারাত্মকভাবে নিরুৎসাহিত করবে। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অভিবাসন নীতি মুক্তবাক ও ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারকে সংকুচিত করছে। পাশাপাশি, এটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং বর্ণবৈষম্যকে উসকে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর কথা বলা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন প্রকারান্তরে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও আরও বেশি ব্যয়বহুল ও দুরূহ করে তুলেছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ভিসায় নতুন ফি আরোপ এবং আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: