odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 25th August 2026, ২৫th August ২০২৬

অংশীদারিত্বের গণতন্ত্রই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্শ, হীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ August ২০২৬ ০৬:০৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ August ২০২৬ ০৬:০৬

অধিকারপত্র ডটকম যুক্তরাস্ট্র প্রতিনিধি

 বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পরিবর্তন ঘটায়নি; পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রচলিত কাঠামো নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।খবর আইবিএননিউজ ।

গত রবিবার,২৩ আগস্ট ২০২৬,সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিউইয়র্কের ১৬৮-০১,জযামাইকা এভিনিউর উপরে জনপ্রিয় বাঙালি রেস্তোরায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি যুক্তরাষ্ট্রের দলীয় মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অথিতি হিসেবে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র জেএসডি'র আহবায়ক এনামুল হায়দার ও যুগ্ম আহবায়ক সামছু উদ্দিন আহমেদ শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেএসডি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখিকা আমেনা আজিজ,সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন রিমন ইসলাম,বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম।

সেমিনারে আন‍্যান‍্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন ,যুক্তরাষ্ট্র জেএসডি যুক্তরাষ্ট্রের যুগ্ম আহবায়ক তসলিম উদ্দিন খান,এম জাকির হোসেন স্বপন,গাজী আজম বাদল,
রফিক উল্লাহ,ফরিদ উদ্দিন রতন প্রমুখসহ আরোও অনেকে ।

সেমিনার প্রধান অতিথি জেএসডি”র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, পুরোনো রাজনীতির কাঠামোর মধ্যে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব নয়। তাই গণঅভ্যুত্থানের নতুন বাস্তবতাকে আবার পুরোনো ক্ষমতার রাজনীতিতে ফিরিয়ে না নিয়ে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, সংস্কার কোনো সাময়িক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সংবিধান, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া। আর এই সংস্কারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়; রাষ্ট্র পরিচালনায় সকল নাগরিকের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মূল কথা। শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, কৃষক, নারী, তরুণ, প্রবাসী এবং ভিন্নমতাবলম্বী নাগরিক—সবার রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো একক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে রাষ্ট্রের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন এবং নির্বাহী ক্ষমতার কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও নির্বাচনই গণতন্ত্রের শেষ কথা নয়।

গণতন্ত্রকে নির্বাচন থেকে অংশগ্রহণে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অংশীদারিত্বে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ থেকে বিকেন্দ্রীকরণে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন পোশাকে ফিরে আসতে পারে। তাই এখন লক্ষ্য হতে হবে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র রূপান্তরের রাজনীতিতে উত্তরণ—শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন; শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি প্রজাতন্ত্র চাই, যেখানে রাষ্ট্র কোনো দলের নয়—জনগণের; সরকার কোনো দলের স্থায়ী সম্পত্তি নয়—জনগণের অর্পিত দায়িত্ব; আর ক্ষমতা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধিকার নয়—জনগণের অর্পিত সাংবিধানিক আমানত।”

তিনি বলেন, “শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী জনগণ এক হও”—এটি শুধু সাংগঠনিক আহ্বান নয়, রাষ্ট্রের মালিকানায় জনগণের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক আহ্বান। অংশীদারিত্বের গণতন্ত্রের ভিত্তিতেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে হবে।সভার শুরুতে ১৯৫১-এর মহান ভাষা আন্দোলন,১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধসহ আজ পযর্ন্ত সকল গনতন্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট কান নীরবতা পালন করা হয় ।

সভার সভাপতি এনামুল হায়দার সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ।শেষে সবাইকে জেএসডি যুক্তরাষ্ট্রের যুগ্ম আহবায়ক তসলিম উদ্দিন খান এর সৌজন্যে জল খাবার রেস্টুরেন্টের মজাদার নৈশভোজে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয় ।

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: