odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 7th September 2026, ৭th September ২০২৬
ঝাড়-ফুঁক ও কথিত চিকিৎসার মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালানোর অভিযোগে সুনামগঞ্জ থেকে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ September ২০২৬ ২৩:৩৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ September ২০২৬ ২৩:৩৮

অধিকার পত্র প্রতিবেদক | ঢাকা

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ফকিরটিলা এলাকার মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) ও মো. আবদুল্লাহ মিয়া (৬৬)।

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে টার্গেট ভুক্তভোগী

সিআইডি জানায়, চক্রটি ফেসবুক পেজে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিত। সেখানে দুরারোগ্য রোগসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবি করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতো।

বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাকে নানা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হতো। পরে কথিত কবিরাজরা ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে ঝাড়-ফুঁক ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করত।

একপর্যায়ে চিকিৎসার অংশ হিসেবে বাসায় থাকা সোনা-গয়না এক জায়গায় রাখতে বলা হতো। এরপর স্বর্ণালংকারগুলো রুমালে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা এবং সেই পানি পুরো ফ্ল্যাটে ছিটানোর মতো বিভিন্ন কৌশল করা হতো।

সিআইডির ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের সময় ভুক্তভোগীর মনোযোগ অন্যদিকে থাকার সুযোগ নিয়ে চক্রের সদস্যরা কৌশলে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেত।

শাহজাহানপুর থানায় মামলা, তদন্তে সিআইডি

এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে এক ভুক্তভোগী রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডি।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণায় ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তকারী দল।

সাড়ে চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধার

সিআইডি জানায়, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা একটি সোনার আংটি এবং লকেটসহ একটি সোনার চেইন জব্দ করা হয়েছে।

জব্দ করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২১ দশমিক ৮৩ গ্রাম। সিআইডির হিসাবে, এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা

পরে জিয়াসমিন আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. আবদুল্লাহ মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন প্রতারণার ঘটনায় তাঁদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: