অধিকারপত্র ডটকম অনলাইন ডেক্স
বিস্তারিত সংবাদ
ইরানের সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবে থাকা কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহে ভূমিকা রেখেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১০টি সত্তার মধ্যে তিনটি ইরানে অবস্থিত।
ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সামরিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের সক্ষমতা আরও সীমিত করা এবং দেশটির সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের জন্য খরচ বাড়ানো হবে।
এই নিষেধাজ্ঞা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের বৃহত্তর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ কর্মসূচির অংশ। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এই উদ্যোগের লক্ষ্য ইরানের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সীমিত করা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের অবসানের স্পষ্ট সময়সীমা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান নিজেদের সাফল্যের দাবি করেছে।
আগস্টে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করেন। এর লক্ষ্য ছিল তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে একটি চুক্তিতে যেতে ইরানকে চাপ দেওয়া।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতা তৈরির কথা জানিয়েছিলেন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়েও চীনভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে চীন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।
