odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 2nd October 2026, ২nd October ২০২৬

ভূমিকম্পে উদ্ধার তৎপরতা সচল রাখতে ৪১ পয়েন্টে সরঞ্জাম, প্রস্তুত ১০০ ফায়ার স্টেশন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২ October ২০২৬ ১৬:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২ October ২০২৬ ১৬:৫৯

অধিকার পত্র ডটকম 

নিজস্ব প্রতিবেদক

বড় ধরনের ভূমিকম্পে কোনো ফায়ার স্টেশন বা সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ না হয়ে যায়, সে লক্ষ্যে জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

এর অংশ হিসেবে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে দেওয়া, পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম মোতায়েন, বিভাগীয় শহরগুলোতে পৃথক বিশেষ রেসকিউ টিম গঠন এবং ঢাকার আশপাশের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বাসসকে বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কমান্ড ব্যবস্থা সচল রাখার প্রস্তুতি

ভূমিকম্পসহ বড় কোনো দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমান্ড কাঠামো সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পুরান ঢাকার ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর ভবন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়া মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মিরপুরে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর

পুরান ঢাকার বর্তমান সদর দপ্তর ভবনের ঝুঁকি বিবেচনায় মিরপুরে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বহুতল সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি—জাইকার সহযোগিতায় মিরপুর-১০ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি ভবনকে ভূমিকম্পের কম্পনের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রকল্পটির কাজ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

৪১ পয়েন্টে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে উদ্ধার সরঞ্জাম

ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও সরঞ্জাম থাকলেও সদর দপ্তরে বিপুল পরিমাণ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম রাখা হতো।

বড় ভূমিকম্পে সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়লে এসব সরঞ্জাম আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হচ্ছে।

ফলে কোনো একটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর হয়ে পড়লেও কাছাকাছি অন্য স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধার অভিযান চালানোর সুযোগ থাকবে।

পূর্বাচলে ৫০-৬০ সদস্যের বিশেষ রেসকিউ টিম

বড় ধরনের দুর্যোগে স্থানীয় ফায়ার স্টেশনের জনবল দিয়ে একযোগে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো কঠিন হতে পারে। এ কারণে স্পেশাল রেসকিউ টিম বা এসআরটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকার পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম রাখা হয়েছে। ভূমিকম্প বা বড় কোনো দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে এই দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবে।

একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে সদস্য নিয়ে প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ২০ সদস্যের একটি করে এসআরটি টিম রাখা হয়েছে।

এসব সদস্যকে ধসে পড়া ভবনে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাকে সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ ফায়ার স্টেশন

বড় ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরে থাকা ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মহানগরীর কোনো ফায়ার স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে অথবা স্থানীয় জনবল দিয়ে পর্যাপ্ত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব না হলে এসব স্টেশন থেকে জনবল ও সরঞ্জাম এনে সহায়তা করা হবে।

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সরঞ্জাম ও রেসকিউ টিম স্থানান্তরের বিষয়েও বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ

ভূমিকম্প ও মেগা ডিজাস্টার মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ নিয়েও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ অধিদপ্তরের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক বৈঠক হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের কী ধরনের সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা এসব বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। ভূমিকম্প-সম্পর্কিত বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে মহড়া

বড় ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডে মোবাইল নেটওয়ার্ক, টেলিফোন ও ওয়্যারলেস যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহযোগিতায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করা হয়েছে।

মহড়ায় মোবাইল, ল্যান্ডফোন ও বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের মধ্যে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার অনুশীলন করা হয়।

ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের প্রযুক্তি এখনো নেই

ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের মতে, বড় ভূমিকম্পের সঠিক সময় আগে থেকে নির্ভুলভাবে জানানোর মতো প্রযুক্তি এখনো নেই। ফলে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মহড়ার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকি রয়েছে।

তার মতে, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ছোট-বড় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সরঞ্জামের মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।

তিনি বলেন, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলা উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন। বাংলাদেশেও এ ধরনের দুর্যোগে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিদ্যমান সক্ষমতা নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

ভবনধস, অগ্নিকাণ্ড ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বড় চ্যালেঞ্জ

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলা করাই ফায়ার সার্ভিসের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ভবনধসের পাশাপাশি গ্যাসলাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকারীরা ভেতরে প্রবেশ করলে তাদের নিজেদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আটকে পড়া মানুষ শনাক্ত করা, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

SEO হেডলাইন: ভূমিকম্প মোকাবিলায় বড় প্রস্তুতি: ৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম, ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ ফায়ার স্টেশন

SEO সাবহেডলাইন: পূর্বাচলে ৫০-৬০ সদস্যের বিশেষ রেসকিউ টিম, বিভাগীয় শহরে এসআরটি; মিরপুরে নির্মাণ হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর

ফেসবুক ভাইরাল হেডলাইন: বড় ভূমিকম্প হলে থামবে না উদ্ধার অভিযান, ৪১ পয়েন্টে সরঞ্জাম ও ১০০ ফায়ার স্টেশন প্রস্তুত

SEO কীওয়ার্ড: বাংলাদেশ ভূমিকম্প, ভূমিকম্প প্রস্তুতি, ফায়ার সার্ভিস, ভূমিকম্প মোকাবিলা, উদ্ধার সরঞ্জাম, ৪১ পয়েন্টে সরঞ্জাম, ১০০ ফায়ার স্টেশন, স্পেশাল রেসকিউ টিম, এসআরটি, পূর্বাচল রেসকিউ টিম, মিরপুর ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর, বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি, ভূমিকম্প ঝুঁকি ঢাকা

হ্যাশট্যাগ:
#ভূমিকম্প #Earthquake #FireService #RescueOperation #DisasterManagement #Bangladesh #ঢাকা #জরুরি_প্রস্তুতি #অধিকারপত্র