odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 14th October 2026, ১৪th October ২০২৬
নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ঐতিহাসিক চিঠিতে ধর্ম, উপনিষদ ও দর্শন নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার পরিচয় মিলেছে।

রবীন্দ্রনাথ ও বার্ট্রান্ড রাসেলের ১১৪ বছরের পুরোনো চিঠি প্রকাশ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৪ October ২০২৬ ১৬:১০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৪ October ২০২৬ ১৬:১০

অধিকারপত্র  অনলাইন ডেক্স | অধিকারপত্র ডটকম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ১১৪ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশ করেছে নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। দুই নোবেলজয়ীর চিন্তাভাবনা ও দর্শনের সংযোগ তুলে ধরা এই চিঠি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিটি কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত। নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে চিঠিটির ছবি প্রকাশ করে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের মধ্যকার ঐতিহাসিক যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

 ধর্ম ও দর্শন নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা

বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯১২ সালের ১৩ অক্টোবর লেখা চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জানান, তিনি সম্প্রতি রাসেলের ‘দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন’ (The Essence of Religion) শীর্ষক প্রবন্ধটি পড়েছেন। প্রবন্ধটি তাঁকে সনাতন ধর্মের উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রোমান হরফে সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করার পাশাপাশি এর ইংরেজি অনুবাদ ও দার্শনিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল ভাব ছিল—মানুষ যখন নিজের সীমাবদ্ধ সত্তার গণ্ডি অতিক্রম করে অসীমের সঙ্গে বৃহত্তর সম্পর্ক উপলব্ধি করতে পারে, তখন জাগতিক ভয় থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পায়।

চিঠির এই বক্তব্যে ধর্ম, মানুষের আত্মিক উপলব্ধি এবং অসীমের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চিন্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

 দুই নোবেলজয়ীর ঐতিহাসিক সংযোগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত মনীষী। সাহিত্য ও দর্শনের ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে কাজ করলেও তাঁদের মধ্যে চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় ব্যক্তি, যিনি এই পুরস্কার অর্জন করেন। অন্যদিকে, বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

দুই মনীষীর মধ্যকার পুরোনো চিঠিটি তাঁদের চিন্তার জগৎ, ধর্মীয় দর্শন নিয়ে আলোচনা এবং আন্তসাংস্কৃতিক বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের এই চিঠি বর্তমান প্রজন্মের পাঠক, গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক ভাবনা এবং রাসেলের সঙ্গে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগ সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস),

 

সম্পাদনা-সংক্রান্ত সতর্কতা: প্রকাশের আগে নোবেল পুরস্কারের মূল ফেসবুক পোস্ট এবং ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসেল আর্কাইভ থেকে চিঠির তারিখ, মূল বক্তব্য ও প্রবন্ধের শিরোনাম মিলিয়ে নেওয়া ভালো। এখানে এসব তথ্য বাসসের সরবরাহ করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে; মূল চিঠি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।