odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 14th October 2026, ১৪th October ২০২৬
বিচারকের সামনে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষ; এজলাস ছেড়ে যান বিচারক, পরে আয়াস ও মারজিয়া খন্দকারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার মামলায় আয়াসের জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের হাতাহাতি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৪ October ২০২৬ ১৯:৫৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৪ October ২০২৬ ১৯:৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে এজলাসে ফিরে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এ ঘটনা ঘটে। প্রথম আলো ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন এবং প্রায় পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে আদেশ দেন।

 জামিন আবেদন ঘিরে উত্তেজনা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল রিমান্ড শেষে আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে আদালতে হাজির করেন। তিনি তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের স্বার্থে তাঁদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, তাঁর মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আয়াস অসুস্থ এবং মারজিয়া খন্দকারের একটি সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জামিনের আবেদন জানান।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, আসামিদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানানো। দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলেও তিনি আদালতে দাবি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের পর হাতাহাতি

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাটি উসকানি সৃষ্টি ও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে। এ সময় তিনি আসামিদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের একপর্যায়ে আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী উচ্চ স্বরে প্রতিবাদ জানান। এরপর দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়। পরিস্থিতি দেখে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে বিচারক এজলাসে ফিরে আসেন। এরপর আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 ১০ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন আয়াসসহ চারজন

গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়াসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় আদালত আয়াসসহ দুই আসামির তিন দিন এবং অপর দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিমান্ড শেষে বুধবার আয়াস ও রিমিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির পর তাঁদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

 

 

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার মামলায় জামিন শুনানি ঘিরে আদালতে হাতাহাতি, এজলাস ছাড়লেন বিচারক

#রবীন্দ্রনাথ #আয়াস #ঢাকাআদালত #আইনজীবী #জামিনশুনানি #বাংলাদেশ #অধিকারপত্রডটকম