অধিকার পত্র ডটকম | জাতীয় ডেক্স:প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল উপজীব্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানবতার কল্যাণ সব ধর্মের অন্যতম প্রধান শিক্ষা। নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সবার দায়িত্ব।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ যুগ যুগ ধরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। এটিই দেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সৌন্দর্য।
ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রীতি ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ।
দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সরকারের অঙ্গীকার বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ।
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার আশ্বাস
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসব আনন্দ নির্বিঘ্নে উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার—রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার—নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’
তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে, নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সারা দেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাদের আবারও উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই বাণীতে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিকের সমান অধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
