odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 26th October 2026, ২৬th October ২০২৬
ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ থেকে মাংস আমদানি সহজ করার উদ্যোগে গবাদিপশুর বাজারদরে অস্থিরতা; ভোক্তাদের দাম কমবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত

গরুর মাংস আমদানিতে শুল্ক ছাড়, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মার্কিন খামারিরা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৬ October ২০২৬ ০২:২০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৬ October ২০২৬ ০২:২০

অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক**

যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম কমানোর লক্ষ্যে আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে দেশটির খামারিদের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় পশুপালকেরা বাজারে নিজেদের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

আল জাজিরার ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু গরুর মাংসের ওপর শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এর ফলে বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানি তুলনামূলক সস্তা হয়েছে।

প্রশাসনের যুক্তি, আমদানি সহজ হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্তাদের জন্য মাংসের দাম কমতে পারে। তবে এই নীতির ফলে খুচরা বাজারে দাম কতটা কমবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

## পশুর বাজারদরে প্রভাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুল্ক ছাড়ের ঘোষণার পর গবাদিপশুর নিলামমূল্যে দ্রুত পতন ঘটে। এতে মাংসের জন্য পশু বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া অনেক খামারির সম্ভাব্য আয় কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাটলমেনস অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ক্যাটলমেনস বিফ অ্যাসোসিয়েশন ও ফার্ম ব্যুরোসহ খামারিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ ডেভিড অ্যান্ডারসনের মতে, আমদানি সস্তা হলে স্থানীয় খামারিদের গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ানোর প্রণোদনা দুর্বল হতে পারে। কারণ বেশি পশু উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি লাভের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

## খামারিরা কেন উদ্বিগ্ন?

যুক্তরাষ্ট্রের গবাদিপশুর পাল ১৯৫১ সালের পর সবচেয়ে কম পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খরা, পশুখাদ্যের বাড়তি খরচ, ঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানির দাম এবং উৎপাদনব্যয়ের চাপ খামারিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

এ বছর পশুর সরবরাহ কম থাকায় বাজারদর রেকর্ড পর্যায়ে উঠলেও বেশি আয় মানেই বেশি মুনাফা নয়। অনেক খামারিকে ঋণ পরিশোধ, পশুখাদ্য কেনা ও খামার পরিচালনার ব্যয় মেটাতে হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হলেও নির্বাচনে খামারিরা কাকে ভোট দেবেন, তার প্রভাব কতটা পড়বে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্রামীণ ভোটারদের মনোভাব রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

**সূত্র: আল জাজিরা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬।**