odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 28th October 2026, ২৮th October ২০২৬
১২০ আসনের নেসেটে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো পক্ষ, সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আরব দলগুলোর সমর্থন

ইসরায়েল নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩, বিরোধীদের ৪৮ আসন; আরব দলগুলোর রেকর্ড উত্থান

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৮ October ২০২৬ ২১:১৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৮ October ২০২৬ ২১:১৩

আন্তর্জাতিক | অধিকার পত্র ডটকম

ইসরায়েলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন অর্জন করেছে, যা তাদের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট। তবে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি তাঁর জোট। অন্যদিকে, সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উল্লেখযোগ্য উত্থান দেশটির সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত. দ্য টাইমস অব ইসরায়েল.-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ ব্যালটের ৯৩ শতাংশ গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। সেই হিসাবে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে আট আসন পিছিয়ে রয়েছে। বিরোধী শিবিরও এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি।

আরব দলগুলোর ঐতিহাসিক সাফল্য

এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্মিলিত ১৯টি আসন অর্জন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফলে তাদের এই অবস্থান সরকার গঠনের আলোচনা ও সম্ভাব্য জোটের হিসাব-নিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে আসনসংখ্যা বেশি হলেই কোনো জোটের সরকার গঠন নিশ্চিত হয় না। আরব দলগুলোর সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতাদর্শগত পার্থক্য এবং জোটে অংশ নেওয়া নিয়ে আপত্তি থাকায় তাদের আসনগুলো কীভাবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় কাজে লাগবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

এখনো বাকি ভোট গণনা

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ব্যালটের অধিকাংশ গণনা শেষ হলেও সব ভোটের হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ ব্যবস্থায় জমা দেওয়া প্রায় ছয় লাখ ব্যালট—যার মধ্যে সেনাসদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণির ভোটারদের ভোট রয়েছে—তখনো গণনা করা বাকি ছিল। ফলে চূড়ান্ত আসনবণ্টনে পরিবর্তন আসতে পারে।

এ কারণে বর্তমান আসনসংখ্যাকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পরই দলগুলোর আসনসংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, নির্ধারণ করবে জোটের সমীকরণ

ইসরায়েলে ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা ও দলগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়। ফলে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া জোটের নেতাই যে নিশ্চিতভাবে প্রধানমন্ত্রী হবেন, এমন নয়।

বর্তমান ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য আরও সমর্থন প্রয়োজন। একইভাবে, আইজেনকোটের বিরোধী শিবিরকেও সরকার গঠনের জন্য অন্য দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের লড়াই এখন নির্ভর করছে চূড়ান্ত ভোটের হিসাব, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের অবস্থানের ওপর। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উল্লেখযোগ্য আসন অর্জন সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; আরব নিউজ।