ঢাকা | রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সাথে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের মতবিনিময় সভা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:৪৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:৪৭

ইবিপ্রতিনিধি: 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৮ তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি তে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

এসময় উপস্থিত থেকে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুফ আলী, অফিস সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি, অর্থ সম্পাদক শেখ আলামিন, সাহিত্য সম্পাদক ওমর ফারুক সহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি পঙ্কজ রায় বলেন, মাতৃভূমিকে ভালোবেসে সবাই মিলেমিশে একে অপরের বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে থাকবো। দেশ ও জাতির কল্যানে ঐক্যবদ্ধ থাকবো। একই ধর্মের তুষায় মালাকা বলেন, রমজানে আমরা অধিকাংশ হলে থাকি কিন্তু হল ডাইনিং বন্ধ থাকে। যার জন্য আমাদের সমস্যা হয়। তাছাড়া প্রতিটা হলেই গরুর মাংস রান্না করা হয়। পরিবেশনের সময় একই সাথে ঐ হাতেই পরিবেশন করা হয়। এটা আমাদের জন্য সেন্সিটিভ। ছাত্রশিবির কে এ বিষয়ে নজর রাখতে বলেন।

এ সময় খ্রিস্টান ধর্মের পক্ষে প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সবার বিশ্ববিদ্যালয়, আমরা সকলে মেধা দিয়ে এখানে এসেছি। ইবির মত বাংলাদেশ ও আমাদের সবার। আমার এক হয়ে চলবো। মেধা দিয়ে দেশ গড়বো।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষার্থী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে এখানে পড়ালেখা করতে এসেছি। ছোট থেকেই ভয়ে বড় হয়েছি। আমাদের পাহাড় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সংগ্রাম করে বড় হয়েছি। আমি চাই পাহাড় ও সমতলের মধ্য কোনো পার্থক্য না থাকুক। সবার অধিকার ফিরে পাক।

রিন্তু চাকমা বলেন, আমি অনেক দিন এই ক্যাম্পাসে আছি, অনেক বিষয় উপলব্ধি করেছি। আগে ছাত্রশিবির কে যেভাবে উপস্থাপন করা হতো। যে নেগেটিভ ছড়ানো হতো।এখন দেখি বাস্তবতা আসলে ভিন্ন।আমরা একই দেশের মানুষ, হয়তো আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি আলাদা কিন্তু একই দেশে বাস করি।

শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, আজকের আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো আপনাদের মতামত জানা। আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে চাই, মিলেমিশে একাকার হয়েযেতে চাই।বিচারের ক্ষেত্রে আধিকার নিশ্চিত করাই ইসলামের দাবি। আমাদের নিয়ে যে অপপ্রচার হয়েছে, সেই অপপ্রচার রোধকল্পে আমরা আমাদের প্রকাশনা উৎসব করেছি, সেখানে সবাই দেখেছে আমরা কী কী বই পড়ি। এটার মাধ্যমে ছাত্ররা বুঝতে পেরেছে তারা আমাদের উপর কীভাবে ব্লেমগেম খেলতো।

ছাত্রশিবির শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন এমনটা নয়। ছাত্রশিবির একটি আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছাত্রশিবিরের কাজ হলো একটি আদর্শকে লালন করা।যে আদর্শ সব সময় মানবতার কথা বলে, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে।যে আদর্শ সব সময় মানুষে পাশে দাঁড়ানোর কথা বলে।যে আদর্শ সবসময় মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সে আদর্শের শিক্ষাকে ধারণকরা এবং সেটা আলোকে সমাজে কাজ করা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষেই ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ হলো সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ছাত্রশিবিরের ফোকাস থাকে অধিকার নিশ্চিত করা। আমাদের লক্ষ হলো সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। সে জন্য চাই সৎ, দক্ষ এবং দেশ প্রেমি নাগরিক তৈরি করা। দেখেছি অনেক রাজনৈতিক দাল কাজ করেছে কিন্তু এদেশে ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। আমাদের দেশ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত তার কারণ আমরা সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রমিক নাগরিক তৈরি করেতে পারিনি। এটি করেতে সে গুণাবলির প্রয়োজন সেটা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ছাত্রশিবির। সেটা হতে পারে মুসলিমদের মধ্যে থেকে হতে পারে, হিন্দুর,বৌন্ধ, খ্রিষ্টান বা যে কোনো ধর্মাবলম্বী মানুষ হতে পরে । মানুষ তৈরি করার কারখানা হলো ইসলামী ছাত্রশিবির। আমরা চাই প্রতিটা ধর্মকেই যেন মূল্যায়ল করা হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: