ঢাকা | শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের মালিকানা কিনতে আগ্রহী নন ইলন মাস্ক

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৪৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৪৩

বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ইলন মাস্ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মালিকানা কেনার কোনো পরিকল্পনা করছেন না।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, শনিবার প্রকাশিত এক মন্তব্যে মাস্ক বলেন, ‘আমি টিকটকের জন্য কোনো বিড করিনি এবং এটি কেনার পর কী করব সে সম্পর্কেও আমার কোনো পরিকল্পনা নেই।’ জানুয়ারির শেষ দিকে জার্মানির একটি ফোরামে ভিডিওলিংকের মাধ্যমে তিনি এই বক্তব্য দেন।

টিকটক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে মার্কিন আইন অনুসারে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে টিকটক বিক্রি করতে হবে, অন্যথায় এটি দেশটিতে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পরই ট্রাম্প টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। এরপর তিনি জানান, ইলন মাস্ক চাইলে তিনি টিকটক কেনার অনুমতি দেবেন। তবে মাস্ক এই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাননি।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে টিকটক ব্যবহার করি না, তাই এটি সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা নেই। আমি এটি কেনার জন্য কোনো আগ্রহও বোধ করছি না।’

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মাস্ক টুইটার কিনে সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘এক্স’ রাখেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এটি কিনে তিনি বাকস্বাধীনতা রক্ষা করতে চান। তবে অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তার মালিকানায় আসার পর থেকে প্ল্যাটফর্মটিতে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিমাণ বেড়েছে।

মাস্ক বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট কমানোর উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিশিয়েন্সি’ (ডগে) বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীসংখ্যা কমিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে।

শনিবার একটি মার্কিন আদালত মাস্কের এই সংস্থাকে ট্রেজারি বিভাগের সংরক্ষিত লক্ষ লক্ষ মার্কিন নাগরিকের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য অ্যাক্সেস করা থেকে বিরত রাখার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

জার্মানির ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে মাস্ক ‘ডাইভারসিটি, ইকুইটি ও ইনক্লুশন’ (ডিইআই) কর্মসূচিরও সমালোচনা করেন, যা ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় পরিচালিত হয়।

তিনি বলেন, ‘ডিইআই আসলে নতুন রূপ দেওয়া বর্ণবাদ। আমি যে কারও প্রতি বর্ণবাদ বা লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে।’

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই সরকারি পর্যায়ে ডিইআই কর্মসূচি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর আওতায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করা, অনুদান বাতিল করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।

জার্মানিতে মাস্ক অভিবাসনবিরোধী উগ্র ডানপন্থী ‘আল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা দেশটির নাৎসি অতীতের কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: