ঢাকা | সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

গাজায় অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড ইসরাইলি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে : জাতিসংঘ কর্মকর্তা

Mahbubur Rohman Polash | প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৫ ২৩:১৮

Mahbubur Rohman Polash
প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৫ ২৩:১৮

 জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার বলেছেন, গাজায় অ্যাম্বুলেন্সে গুলি চালানোর পর ১৫ জন চিকিৎসক ও মানবিক কর্মীর মৃত্যু ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 


জাতিসংঘ থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ভলকার টার্ক বলেছেন, ‘সম্প্রতি ১৫ জন চিকিৎসা কর্মী এবং মানবিক সহায়তা কর্মীর হত্যাকাণ্ডে আমি মর্মাহত, যা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধের ঘটনা নিয়ে আরো উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।’

টার্র্ক গত ২৩ মার্চের ঘটনাটির ‘স্বাধীন, দ্রুত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। যা ইসরাইলি কর্মকর্তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ ওপর আক্রমণ বলে দাবি করেছেন।

রাফার কাছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের আটজন এবং জাতিসংঘের একজনসহ ১৫ জন উদ্ধারকারী এবং মানবিক কর্মীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। যাকে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ) ‘গণকবর’ বলে অভিহিত করেছে।

ওসিএইচএ মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, গত ২৩ মার্চ ইসরাইলি বাহিনীর হাতে প্রথম দলটি নিহত হয় এবং অন্যান্য জরুরি ও সাহায্যকারী দলগুলো তাদের নিখোঁজ সহকর্মীদের সন্ধানে গেলে কয়েক ঘন্টা ধরে একের পর এক হামলার শিকার হয়।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি ইউনূস আল-খতিব বলেন, ‘এই সংঘাতের সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি যা আমাদের মানবতাকে তার মূলে নাড়িয়ে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, মোস্তফা, এজ্জেদিন, সালেহ, রিফাত, মোহাম্মদ বাহলুল, মোহাম্মদ আল-হিলা, আশরাফ এবং রায়েদের আত্মারা ন্যায়বিচার চাইছে।

জাতিসংঘে স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল জবোগার গাজার পরিস্থিতিকে ‘মানবতার ক্ষয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

মানবিক কর্মীদের ওপর বারবার হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে পারি না যে এগুলো কেবল ভুল ছিল।’

ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ‘তারা গত ২৩ মার্চ, ২০২৫ সালের ঘটনা’ তদন্ত করছে, এবং দাবি করেছে যে তাদের সৈন্যরা ‘সন্ত্রাসীদের’ ওপর গুলি চালিয়েছিল।

জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন, বেসামরিক কর্মীদের সুরক্ষার জন্য মানবিক সংস্থাগুলোর একটি উন্নত ‘পরীক্ষা ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

টার্র্র্ক এক মাসের জন্য মানবিক সাহায্যের প্রবেশ বন্ধ করে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য ইসরাইলের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘গাজার অবরোধ ও অবরোধকালে’ এবং এর ফলে বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ ‘এক ধরণের সম্মিলিত শাস্তি’।

গাজা উপত্যকার ভূখণ্ড দখল, বিভক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের প্রতি টার্র্র্ক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

‘এই সমস্ত কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ জাগিয়ে তোলে এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ভূখণ্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।’

গত ৭ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে ইসরাইলের ওপর হামাসের আক্রমণের ফলে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: