odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 10th March 2026, ১০th March ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জি–৭ দেশগুলো

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানি সরবরাহে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত জি–৭

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১০ March ২০২৬ ০০:০৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১০ March ২০২৬ ০০:০৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। পারস্য উপসাগরে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট G7 প্রয়োজনে তাদের জরুরি কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তেলের দামে রেকর্ড লাফ

সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একলাফে ২৫% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়। যদিও পরবর্তীতে তা কিছুটা কমে ১০২ ডলারের আশেপাশে স্থিতিশীল হয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ১২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে যা বিশ্বজুড়ে ডিমান্ড ডেসট্রাকশন বা চাহিদা বিপর্যয় ঘটাবে।

G7 ও আইইএ (IEA)-এর জরুরি বৈঠক

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় G7 ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেন হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি তেলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এটি বাজারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বর্তমানে আইইএ সদস্য দেশগুলোর কাছে ১.২ বিলিয়ন ব্যারেল সরকারি জরুরি মজুত এবং আরও ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল শিল্প মজুত রয়েছে। তবে ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর জানিয়েছেন এখনই মজুত তেলের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করার সময় আসেনি। যদিও G7 এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ চিত্র

গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তু ও তেল ডিপোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের একটি বড় তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বর্তমানে প্রায় বন্ধ বললেই চলে।

শেয়ার বাজারে ধস ও মূল্যস্ফীতির আতঙ্ক

জ্বালানির দাম বাড়ায় বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে:

  • জাপানের Nikkei 225 সূচক ৫.২% এবং দক্ষিণ কোরিয়ার Kospi ৬% পড়েছে।
  • লন্ডনের FTSE 100 এবং জার্মানির Dax সূচকেও পতন লক্ষ করা গেছে।

তবে তেলের দাম বাড়ায় শেল (Shell) এবং বিপি (BP)-এর মতো জ্বালানি জায়ান্টগুলোর শেয়ারের দাম বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে তেলের এই উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঢেউ তুলবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর যে পরিকল্পনা করছিল তা থমকে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের সুদের হার বর্তমানে ৩.৭৫% থাকলেও বছরের শেষ নাগাদ তা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ইরানের পরমাণু হুমকি ধ্বংস হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এই সাময়িক মূল্য খুবই সামান্য। যারা এটি বোঝে না তারা মূর্খ। এদিকে বাজার বিশ্লেষকদের মতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নাইন্টিওয়ান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট-এর প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান পল গুডেন বলেন পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বাজার আরও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠবে এবং তেলের দাম ১২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশ্ববাজারে গ্যাসের দামও বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে এক মাস মেয়াদি গ্যাসের দাম সোমবার প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: